মহালছড়িতে সম্প্রীতি কাপের জমকালো ফাইনাল : মাইসছড়িকে ১–৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন অর্নিবান ক্লাব
- আপডেট: ১০:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ ফুটবলের উত্তেজনা, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে মহালছড়ি সম্প্রীতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। ফাইনালে মাইসছড়ি চৌধুরী পাড়া একাদশকে ১–৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মহালছড়ি অর্নিবান ক্লাব।
ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে মহালছড়ি স্টেডিয়াম পরিণত হয় বর্ণিল মিলনমেলায়। বিপুলসংখ্যক দর্শকের করতালি ও উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে ম্যাচ। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ছিল টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত ১–৩ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় অর্নিবান ক্লাব।
তবে জয়-পরাজয়ের বাইরেও এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় বার্তা ছিল শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণ, ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে ফুটবল হয়ে ওঠে পারস্পরিক যোগাযোগ ও মিলনের একটি মাধ্যম।
খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও প্রতিপক্ষকে সম্মান করার শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণদের দূরে রাখতে ক্রীড়া আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আয়োজকদের মতে, তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ানোই ছিল আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
টুর্নামেন্টের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পরিবেশ সচেতনতা। মহালছড়ি জোনের পক্ষ থেকে দর্শকদের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ২৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
ফাইনাল শেষে বিজয়ী অর্নিবান ক্লাব ও রানার্সআপ মাইসছড়ি চৌধুরী পাড়া একাদশের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন মহালছড়ি জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল জাবির আসিফ। এ সময় আয়োজক, ক্রীড়াপ্রেমী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ, ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট ও সেরা গোলকিপার নির্বাচিত খেলোয়াড়দেরও পুরস্কৃত করা হয়।
মহালছড়ি সম্প্রীতি কাপের ফাইনাল তাই শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার সমাপ্তি নয়; ফুটবলের আনন্দের সঙ্গে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, তারুণ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি আয়োজন হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকল।


























