বাড়ছে পুরুষদের মূত্রনালির সংক্রমণ, প্রতিকারে করণীয়
- আপডেট: ১০:৩৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ২১৩

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : ইউটিআই বা মূত্রথলির সংক্রমণ কেবল মহিলাদের হয়, এই ধারণা ঠিক নয়। পুরুষেরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সম্প্রতি পুরুষদের মধ্যে এই রোগের বাড়বাড়ন্ত চিন্তা বাড়াচ্ছে চিকিৎসকদের।
মূত্রনালিতে সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) কেবল নারীদেরই হয়, এই ধারণা ঠিক নয়। পুরুষেরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সম্প্রতি পুরুষদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা বেড়েছে।
চিকিৎকরা বলছেন, সংক্রমণের পর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে বা চিকিৎসা না করালে এই রোগ একাধিকবার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।
কেন পুরুষরাও নিরাপদ নন?
নারীদের ক্ষেত্রে ইউটিআই’র লক্ষণ ও তীব্রতা সাধারণত বয়সের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসরা বলছেন, জন্মগত কারণে অনেকে এই রোগের শিকার হতে পারেন। ইউরিনারি প্যাসেজে কোনো ত্রুটির কারণে ইউটিআই হতে পারে।
খুব ছোট শিশুদের সমস্যা হলো, প্রস্রাব করতে গিয়ে জ্বালা-যন্ত্রণা হলে তারা সেটা মুখে বলতে পারে না। জ্বর হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ইউটিআই ধরা পড়ে। ইউরিনের কালচার রিপোর্ট পজ়িটিভ এলে আরও কিছু পরীক্ষার পরে চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন।
মূত্রথলির আকার একই, তবু কেন পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশিবার প্রস্রাব করে?মূত্রথলির আকার একই, তবু কেন পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশিবার প্রস্রাব করে?
মাঝবয়সীদের ক্ষেত্রে স্ট্রিকচার থাকলে বা প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের কোনও সংক্রমণ ঘটলে, যাকে প্রস্টেটাইটিস বলে, সেখান থেকে ইউটিআই-এর সম্ভাবনা বাড়ে। কিডনি বা ব্লাডারে স্টোন থাকলেও এই রোগ দেখা যায়।
প্রৌঢ়ত্বে প্রস্টেট সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় ইউটিআই হতে পারে। যাদের ডায়াবিটিস আছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই রোগের ঝুঁকি বেশি। এছাড়াও শরীরে পানির ঘাটতি হলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
প্রস্রাব সংক্রমণের মূল উপসর্গগুলো কী কী?
শীত শীত ভাব। মাঝেমাঝে জ্বরও আসে
প্রস্রাব করার সময়ে ব্যথা ও জ্বালা
প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হওয়া
প্রস্রাব ঘোলাটে বা লালচে হওয়া
শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া
চিকিৎসা
অনেকে ইউটিআই-তে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বাজার প্রচলিত কিছু ওষুধ ও জেল ব্যবহার করতে শুরু করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রবণতা অত্যন্ত খারাপ। এতে সংক্রমণ কমে না, তার বদলে তা অনেক সময় শরীরে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। ওষুধ বন্ধ করার কিছু দিনের মধ্যেই প্রবল ভাবে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রথম থেকেই এই অসুখ হলে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।
অনেক সময়েই দেখা যায়, কারও আগে এই রোগ হয়ে গেলে পরের বার লক্ষণ দেখে তিনি নিজেই আগের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ খেতে শুরু করে দেন। সেটিও উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ইউরিন কালচারের জন্য পাঠিয়ে সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ওষুধ খেলে তবেই মিলবে সুফল। কালচারের রিপোর্ট আসতে তিন দিন সময় লাগে। প্রশ্ন হলো, সেই সময়ে কী হবে? এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শুরু করতে বলেন, যেটা রিপোর্ট পাওয়ার পরে বদলানো যেতে পারে। এর সঙ্গে রোগীকে পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় ও ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়।
বার বার হলে যা করবেন
ইউটিআই অনেক সময়ে ফিরে আসে। প্রথম বার সেরে যাওয়ার কিছু দিন পরে ফের শুরু হয়। এই রেকারেন্ট ইউটিআই খুব সমস্যার। যাদের এই প্রবণতা থাকে, তাদের প্রথমে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স দেওয়া হয়। সেরে যাওয়ার পরেও কম ডোজ়ের অ্যান্টিবায়োটিক চলতে থাকে, যেটা অসুখ না থাকলেও বেশ কিছু দিন ধরে খেয়ে যেতে হয়। তবে এক্ষেত্রে প্রথমেই দেখে নেওয়া হয়, বার বার এমনটা হওয়ার কারণ কী। কোনো অবস্ট্রাকশন থাকলে আগে তার চিকিৎসা জরুরি। কিন্তু কারণ ছাড়াই বার বার ইউটিআই হলে টানা ওষুধ খেতে যেতে হবে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা



























