যশোরে বিএনপি নেতা হত্যার নেপথ্যে জামাতার লোভ ও প্রতিশোধের ছক
- আপডেট: ১১:৫০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলি করে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যার পেছনে ছিলেন তারই একমাত্র জামাতা বাসেদ আলী পরশ। শ্বশুরের বিপুল সম্পত্তি ও দামি গাড়ির প্রতি লোভ এবং স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন তিনি। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন স্থানীয় যুবক আসাবুল ইসলাম সাগর, যিনি নিহত আলমগীর হোসেনের পূর্বশত্রু হিসেবে পরিচিত।
রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৭টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে মোটরসাইকেলযোগে শংকরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন। তিনি শংকরপুর বটতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। চলন্ত অবস্থায় মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক রাউন্ড গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সুপার জানান, প্রায় ৯-১০ বছর আগে আলমগীর হোসেনের মেয়ের সঙ্গে পরশের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে একসময় বিচ্ছেদ হলেও পরে আবার সংসার শুরু করেন তারা। তবে সম্প্রতি পরশ পুনরায় যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে আলমগীরের মেয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকেই পরশ শ্বশুর ও স্ত্রীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মূলত শ্বশুরের জমি কেনাবেচার ব্যবসা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নেন তিনি।
অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের আরেক পরিকল্পনাকারী আসাবুল ইসলাম সাগর একসময় চরমপন্থি এক নেতার বডিগার্ড ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর আলমগীর হোসেনের ভাইয়ের বাড়ি ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে সাগরের সঙ্গে আলমগীরের কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়া সাগরের স্ত্রী আলমগীরসহ চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সাগর নিয়মিত আলমগীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দিতেন। এসব ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক শত্রুতাই পরশ ও সাগরকে একই ষড়যন্ত্রে যুক্ত করে।
এই ঘটনায় নিহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী শামীমা খাতুন বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জামাতা বাসেদ আলী পরশকে প্রধান আসামি এবং আসাবুল ইসলাম সাগরসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে পরশ ও সাগরকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি মূলত পারিবারিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের ফল। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সিআইডির সহায়তা নেওয়া হবে। ভাড়াটে খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’




















