১২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

শার্শায় চাঁদা না দেওয়ায় নির্মিত সড়কের ইট তুলে ফেলার অভিযোগ “ডাবলু বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ”

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের শার্শা উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় নির্মিত একটি সড়কের ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের জিরেনগাছা গ্রামে ডাবলু নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারুন সাপা ট্রেডার্সের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন জানান, জিরেনগাছা গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে আছির উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হলে স্থানীয় আরমান হোসেন ওরফে ডাবলু বাধা দেয়। এক সপ্তাহ আগে সে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সড়ক নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানায়। তার দাবি ছিল, ওই সড়ক দিয়ে যাদের যাতায়াত হবে তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক-তাই সড়ক নির্মাণ করা যাবে না।

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন। এরপর ডাবলু নিজেই তাকে সড়ক নির্মাণ করতে বলে। কাজ শেষ হলে সে ছোট ভাই ও সহযোগীদের জন্য টাকা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত সোমবার ডাবলুর নেতৃত্বে নির্মিত সড়কের ইট তুলে ফেলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জিরেনগাছা গ্রামের সাত্তার মোল্যার ছেলে মোমিনুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ডাবলু একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি। গত ৫ আগস্টের পর সে এলাকায় ফিরে এসে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছে। তিনি আরও বলেন, গত ১২ জানুয়ারি বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় তার বাড়িতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় ৩ হাজার মানুষের জন্য ডেকোরেটর, গরু, হাটবাজারসহ সকল সদয় কেনা হলেও রোববার রাতে ডাবলু ও তার বাহিনী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদ বলেন, “ডাবলু একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে এসে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। চাঁদার দাবিতে সড়ক নির্মাণে বাধা দেওয়া ছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পন্ড করে দেয়।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরমান হোসেন ওরফে ডাবলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

শার্শায় চাঁদা না দেওয়ায় নির্মিত সড়কের ইট তুলে ফেলার অভিযোগ “ডাবলু বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ”

আপডেট: ১০:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের শার্শা উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় নির্মিত একটি সড়কের ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের জিরেনগাছা গ্রামে ডাবলু নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারুন সাপা ট্রেডার্সের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন জানান, জিরেনগাছা গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে আছির উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হলে স্থানীয় আরমান হোসেন ওরফে ডাবলু বাধা দেয়। এক সপ্তাহ আগে সে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সড়ক নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানায়। তার দাবি ছিল, ওই সড়ক দিয়ে যাদের যাতায়াত হবে তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক-তাই সড়ক নির্মাণ করা যাবে না।

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন। এরপর ডাবলু নিজেই তাকে সড়ক নির্মাণ করতে বলে। কাজ শেষ হলে সে ছোট ভাই ও সহযোগীদের জন্য টাকা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত সোমবার ডাবলুর নেতৃত্বে নির্মিত সড়কের ইট তুলে ফেলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জিরেনগাছা গ্রামের সাত্তার মোল্যার ছেলে মোমিনুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ডাবলু একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি। গত ৫ আগস্টের পর সে এলাকায় ফিরে এসে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছে। তিনি আরও বলেন, গত ১২ জানুয়ারি বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় তার বাড়িতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় ৩ হাজার মানুষের জন্য ডেকোরেটর, গরু, হাটবাজারসহ সকল সদয় কেনা হলেও রোববার রাতে ডাবলু ও তার বাহিনী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদ বলেন, “ডাবলু একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে এসে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। চাঁদার দাবিতে সড়ক নির্মাণে বাধা দেওয়া ছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পন্ড করে দেয়।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরমান হোসেন ওরফে ডাবলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।