০২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ঝিকরগাছা হাসপাতালে দাঁতের মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে চেম্বার বাণিজ্যের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৬৩

সাব্বির হোসেন স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত দাঁতের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নিয়ে বেসরকারি চেম্বার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাহিদুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দাঁতের বিভাগে কর্মরত থাকলেও একইসঙ্গে তিনি ঝিকরগাছা নিশানা মার্কেটে একটি ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ডিউটি সময়েই তিনি তার চেম্বারের কর্মচারী রুবেলকে হাসপাতালে বসিয়ে রাখেন রোগীদের প্রভাবিত করার জন্য।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুবেল হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও দাঁতের বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম লেখেন, রোগীর চেয়ারে বসে মোবাইলে কথা বলেন এবং হাসপাতালের প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে নিশানা মার্কেটের চেম্বারের কার্ড ধরিয়ে দেন। ছবিতে (লাল গোল চিহ্নিত) বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।

আজ হাসপাতালে এক রোগী দাঁতের চিকিৎসার জন্য গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মিনাক্ষী তাকে বাইরে থেকে এক্স-রে করানোর পরামর্শ দিয়ে প্রেসক্রিপশন দেন। ওই রোগী এক্স-রে করানোর জন্য নিশানা মার্কেটের জাহিদুর রহমানের চেম্বারে গেলে তিনি রোগীর সম্মতি ছাড়াই নতুন করে আরেকটি প্রেসক্রিপশন তৈরি করেন। এ সময় এক্স-রে বাবদ ১৫০ টাকা এবং নিজের ফি বাবদ অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায় করা হয়।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসক ইতোমধ্যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন—তারা শুধুমাত্র এক্স-রে করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু জোরপূর্বক নতুন প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট রোগীসহ তার চেম্বারে গিয়ে কথা বলতে বলেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আগামীকাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত কর্মচারীদের ভূমিকা ও সরকারি হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ঝিকরগাছা হাসপাতালে দাঁতের মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে চেম্বার বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: ১০:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

সাব্বির হোসেন স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত দাঁতের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নিয়ে বেসরকারি চেম্বার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাহিদুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দাঁতের বিভাগে কর্মরত থাকলেও একইসঙ্গে তিনি ঝিকরগাছা নিশানা মার্কেটে একটি ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ডিউটি সময়েই তিনি তার চেম্বারের কর্মচারী রুবেলকে হাসপাতালে বসিয়ে রাখেন রোগীদের প্রভাবিত করার জন্য।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুবেল হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও দাঁতের বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম লেখেন, রোগীর চেয়ারে বসে মোবাইলে কথা বলেন এবং হাসপাতালের প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে নিশানা মার্কেটের চেম্বারের কার্ড ধরিয়ে দেন। ছবিতে (লাল গোল চিহ্নিত) বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।

আজ হাসপাতালে এক রোগী দাঁতের চিকিৎসার জন্য গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মিনাক্ষী তাকে বাইরে থেকে এক্স-রে করানোর পরামর্শ দিয়ে প্রেসক্রিপশন দেন। ওই রোগী এক্স-রে করানোর জন্য নিশানা মার্কেটের জাহিদুর রহমানের চেম্বারে গেলে তিনি রোগীর সম্মতি ছাড়াই নতুন করে আরেকটি প্রেসক্রিপশন তৈরি করেন। এ সময় এক্স-রে বাবদ ১৫০ টাকা এবং নিজের ফি বাবদ অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায় করা হয়।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসক ইতোমধ্যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন—তারা শুধুমাত্র এক্স-রে করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু জোরপূর্বক নতুন প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট রোগীসহ তার চেম্বারে গিয়ে কথা বলতে বলেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আগামীকাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত কর্মচারীদের ভূমিকা ও সরকারি হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।