খুলনায় ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগ, এরপরই ‘বিশ্বাস চিড়া মিল’ বন্ধে তৎপরতা
- আপডেট: ০৩:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন বান্দাবাজারের ফজলুর রহমান সড়কে ‘বিশ্বাস চিড়া মিল’ বন্ধের দাবিতে দেওয়া অভিযোগকে ঘিরে সামনে এসেছে চাঁদা দাবির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
মিল মালিকের দায়ের করা নালিশি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবসা চালু রাখতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে পিস্তল ঠেকিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্যও চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের এই ঘটনার পরই মিলটির কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও লিখিত আবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে মিল বন্ধের অভিযোগকারী পক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৃথক লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
বিভিন্ন লিখিত অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের নথি এবং খুলনার বিজ্ঞ মহানগর হাকিম আদালতে দায়ের করা নালিশি মামলার তথ্য পর্যালোচনায় এসব অভিযোগের কথা জানা গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নথিতে দেখা যায়, বান্দাবাজারের ফজলুর রহমান সড়কে অবস্থিত ‘বিশ্বাস চিড়া মিলের’ কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। গত ২২ জুন ২০২৬ মিলটির প্রোপ্রাইটর মো. জামির উদ্দিনকে এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়।
তবে নোটিশের পর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরে দেওয়া লিখিত জবাবে দাবি করা হয়, মিলটির কারণে এলাকায় পরিবেশদূষণ হচ্ছে না। বরং মিলটি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে কর্মরত প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন। এতে তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে খুলনার বিজ্ঞ মহানগর হাকিম আদালতে দায়ের করা নালিশি মামলায় মিল মালিক মো. জামির উদ্দিন বিশ্বাস অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন অভিযুক্তরা। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে দুই আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন।
মামলায় বলা হয়েছে, ওই সময় ব্যবসা চালু রাখতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। একপর্যায়ে একজন পিস্তল বের করে তার মাথায় ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি করেন। প্রাণভয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দেন। বাকি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য পরবর্তীতে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে কেএমপি কমিশনারের কাছে দেওয়া পৃথক একটি লিখিত অভিযোগে শেখ বিল্লাল হোসেন (৩৮) ও শেখ জিল্লুর হোসেন (৩৬)-এর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বাড়ি নির্মাণকারীদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি এবং অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে ওই লিখিত আবেদনে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, কথিত মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার উঠতি বয়সী যুবকদের একটি অংশ মাদকে জড়িয়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরে দেওয়া লিখিত আবেদনে এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, মিল মালিকের কাছে চাঁদা দাবি করে তা না পাওয়ার পরই মিলটি বন্ধের উদ্দেশ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ‘বিশ্বাস অটো চিড়া মিলের’ মালিক মো. জামির উদ্দিন বিশ্বাস ও লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন কথিত মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত শেখ বিল্লাল হোসেন ও তার ভাই শেখ জিল্লুর হোসেন।
এভাবে মিল বন্ধের আবেদন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ, মিল মালিকের করা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা এবং অভিযোগকারী পক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাল্টা অভিযোগ—সব মিলিয়ে ‘বিশ্বাস চিড়া মিল’ বন্ধের বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জট।
অভিযুক্ত শেখ বিল্লাল হোসেন ও শেখ জিল্লুর হোসেনের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।





















