সেন্টমার্টিনের কাছে সাগরে ভাসমান মালয়েশিয়াগামী নৌযান, উদ্ধার ৭৬; আটক ১১
- আপডেট: ০৩:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে একটি কাঠের নৌযান থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়া যাওয়ার নামে প্রতারণার শিকার বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ তাদের উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সেন্টমার্টিন লাইট হাউস থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে এফভি ক্রিস্টাল-১ নামের একটি নৌযানের জেলেরা মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় একটি কাঠের নৌযান ভাসতে দেখেন। সহায়তা করতে এগিয়ে গেলে নৌযানে থাকা কয়েকজনের আচরণ তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানান।
খবর পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌযানটি উদ্ধার করে। তখন নৌযানটিতে পানি ঢুকছিল। নৌবাহিনীর সদস্যরা পানি সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নৌযানে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।
নৌবাহিনী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার। তাদের বেশির ভাগকে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাদের সাগরপথে নেওয়া হচ্ছিল।
নৌবাহিনীর ভাষ্য, নৌযানটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি ঢোকায় যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযানের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা নৌযানটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















