৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল কাণ্ডে জিএম-ডিজিএমসহ ৫ জন বরখাস্ত
- আপডেট: ১০:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম)সহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই ঘটনায় এর আগে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) এস. এম. মুবতাসীম মাহবুব।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চারজন হলেন— আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী, বিলিং সহকারী সুমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার তোরাব আলী।
এর আগে মঙ্গলবার তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের যশোর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, অস্বাভাবিক এই বিদ্যুৎ বিলের ঘটনায় গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে কর্তৃপক্ষ বিলটি সংশোধন করে গ্রাহককে নতুন বিল দেয়। মঙ্গলবার গ্রাহক সংশোধিত বিল পরিশোধ করেন।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের ওই বিলটি ইস্যু করা হয়। বিলের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।
কিন্তু ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে স্বাভাবিক বিলের পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ওই বিল বেড়ে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ দাঁড়াত ২ হাজার ৫৬ টাকা।
অস্বাভাবিক এই বিল দেখে হতবাক হয়ে যান গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে বিলের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর দ্রুত বিলটি সংশোধন করা হয়।
গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাহেব ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমিও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। পরে বিলটি সংশোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার গ্রাহক সংশোধিত বিল পরিশোধ করেছেন।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, বিল তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট ডিজিএম, বিলিং সুপারভাইজার, বিলিং সহকারী ও মিটার রিডারকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গ্রাহকের নামে অতিরিক্ত বিল তৈরির ঘটনায় তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের যশোর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে।



















