০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বাঘারপাড়ায় অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জামায়াত নেতা ছামদানি দলীয় পদ স্থগিত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৭

সাঈদ ইবনে হানিফ, বাঘারপাড়া, যশোর ঃ
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন এবং অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুন্নবী ছামদানির দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।

পরবর্তী কোন দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া সে দলের কোন কর্মকান্ডে যোগ দিতে পারবে না এমনটা জানিয়েছেন দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এদিকে তার স্থলে বন্দবিলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে মাস্টার শাহিনুর ইসলাম এবং সেক্রেটারি হিসেবে ইমতিয়াজ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় একাধিক সূত্র।

দলীয় একাধিক সূত্র আরও জানায়, নুরুন্নবী ছামদানির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছিল। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও দলীয় পর্যায়ে উত্থাপিত হয়। বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজখবর ও যাচাই-বাছাইয়ের পর তা জেলা ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নজরে আসে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, অভিযোগের বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হয়। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে জেলা জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে দলীয় দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি আপাতত দলের কোন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত না হতে বলা হয়েছে হয়েছে।

এবিষয়ে দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন। সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করে কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তারা বলেন, নুরুন্নবী ছামদানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলো নিয়ে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দলের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় পদ বা পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে নুরুন্নবী ছামদানিকে তার পদ থেকে অব্যহতি দেওয়ার পর বন্দবিলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে মাস্টার শাহিনুর ইসলাম এবং সেক্রেটারি হিসেবে ইমতিয়াজ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নেতৃত্বে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তবে নুরুন্নবী ছামদানির বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তার অব্যহতি এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে নুরুন্নবী ছামদানির বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বাঘারপাড়ায় অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জামায়াত নেতা ছামদানি দলীয় পদ স্থগিত

আপডেট: ০৮:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সাঈদ ইবনে হানিফ, বাঘারপাড়া, যশোর ঃ
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন এবং অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুন্নবী ছামদানির দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।

পরবর্তী কোন দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া সে দলের কোন কর্মকান্ডে যোগ দিতে পারবে না এমনটা জানিয়েছেন দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

এদিকে তার স্থলে বন্দবিলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে মাস্টার শাহিনুর ইসলাম এবং সেক্রেটারি হিসেবে ইমতিয়াজ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় একাধিক সূত্র।

দলীয় একাধিক সূত্র আরও জানায়, নুরুন্নবী ছামদানির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছিল। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও দলীয় পর্যায়ে উত্থাপিত হয়। বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজখবর ও যাচাই-বাছাইয়ের পর তা জেলা ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নজরে আসে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, অভিযোগের বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হয়। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে জেলা জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে দলীয় দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি আপাতত দলের কোন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত না হতে বলা হয়েছে হয়েছে।

এবিষয়ে দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন। সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করে কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তারা বলেন, নুরুন্নবী ছামদানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলো নিয়ে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দলের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় পদ বা পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে নুরুন্নবী ছামদানিকে তার পদ থেকে অব্যহতি দেওয়ার পর বন্দবিলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে মাস্টার শাহিনুর ইসলাম এবং সেক্রেটারি হিসেবে ইমতিয়াজ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নেতৃত্বে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তবে নুরুন্নবী ছামদানির বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তার অব্যহতি এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে নুরুন্নবী ছামদানির বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।