খাগড়াছড়িতে পিআরএলসি প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং ও সমন্বয় সভা
- আপডেট: ০৫:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। পার্বত্য চট্টগ্রামে সহনশীল ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে ‘পার্টনারশিপ ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুড ইন দ্য চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস (পিআরএলসি)’ প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং কর্মশালা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের কনফারেন্স হলে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা-আলোর আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী।
সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে সহনশীল জীবিকা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী বলেন, পিআরএলসি প্রকল্পটির ফান্ডিংয়ের বিষয়ে আমি শুরু থেকেই কিছুটা উৎসাহী ছিলাম। বিশেষ করে প্রকল্পের উপকারভোগীদের কথা শোনার বিষয়ে আমার আগ্রহ রয়েছে। আজ হয়তো সুযোগ হয়নি, তবে পরবর্তী সময়ে কোনো না কোনো কর্মসূচিতে অবশ্যই তাদের কথা শুনতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত পার্টনার অর্গানাইজেশনগুলোর প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে—আপনারা যে দুটি উপজেলাকে বেছে নিয়েছেন, সেখানকার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষদের প্রকল্পের আওতায় এনে তাদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্যদের প্রতিও অনুরোধ থাকবে, তারা যেন এ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।’
ইলিয়াস মেহেদী বলেন, ‘আপনারা যে উপকরণ বা ইন্সট্রুমেন্টগুলো দেবেন, সেগুলোর সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিরও একটি যোগসূত্র রয়েছে। কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রমের বিষয়গুলোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা তা পর্যবেক্ষণ করছেন কি না—এ বিষয়গুলোও আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজে কেউ ভালো থাকলেই আমরা ভালো থাকব—এমন নয়। একটি বড় ভবনের পাশে যদি বস্তি থাকে, তাহলে সেই ভবনের মানুষও পুরোপুরি ভালো থাকতে পারবেন না। একইভাবে, কোনো এলাকায় আগুন লাগলে তার প্রভাব আশপাশেও পড়ে। আমাদের প্রতিবেশী যদি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, তাহলে শুধু নিজেদের ভালো থাকার চিন্তা করলে হবে না। তাদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের সবার দায়িত্ব। এই লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করা উচিত।’
তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা বলেন,প্রকল্পটির মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কৃষি ও জীবিকা উন্নয়ন, পুষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা। এর পাশাপাশি দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টও রয়েছে।
তিনি বলেন,‘খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারা তুলনামূলকভাবে প্রত্যন্ত এলাকা। দারিদ্র্যের হারের দিক থেকেও এ দুটি উপজেলা পিছিয়ে ছিল। এ কারণে প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীছড়িতে ২ হাজার ৩০৯টি এবং গুইমারায় ২ হাজার ৩০৯টি,মোট ৪ হাজার ৬১৮টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটাই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য,দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসা এবং তাদের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো।’
‘প্রকল্পের বিস্তারিত বিষয় উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়েছে। তাই এখানে আমি বিস্তারিত আলোচনা করছি না। তবে যারা অনেক কষ্ট করে এই আয়োজনে এসেছেন, বিশেষ করে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্যরা,তাদের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে বলে আমি আশা করি।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মানুষের জীবিকা আরও টেকসই ও সহনশীল করতে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সভায় খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রতন খীসা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য রক্তোৎপল ত্রিপুরা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নিখিল চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা, জেলা পরিষদ সদস্য কুহেলী দেওয়ান, রুমেল মারমা, নারায়ণ ত্রিপুরা ও তাজলিমা সিরাজ সীমা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আনজুম বহ্নি চাকমাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।



















