০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে স্যাম ইউনিটে চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।
মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে (Severe Acute Malnutrition—SAM) আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও মানসম্মত করতে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যাম ইউনিটে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস ও চিকিৎসা উপকরণ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার সকালে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়।

হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির বাস্তবায়নে ‘Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা বলেন, ‘মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করায় হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এ সহায়তার মাধ্যমে এখন থেকে আমরা অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতদিন আমাদের লজিস্টিকসের ঘাটতি ছিল। এখন সেই ঘাটতিও পূরণ হয়েছে। আমরা আশাবাদী, এখন থেকে স্যাম শিশুদের যথাযথ সেবা দিতে পারব।’

হস্তান্তর করা সরঞ্জামগুলোর যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. অনুতোষ চাকমা।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘আমরা জেলার সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আধুনিক সদর হাসপাতালে স্যাম ইউনিট স্থাপনে সহযোগিতা করছি। খাগড়াছড়িতে যে পরিমাণ স্যাম ও ম্যাম শিশু শনাক্ত হয়েছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অচিরেই তা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা এ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্প সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা, পানছড়ি উপজেলা সমন্বয়কারী রাখী ত্রিপুরা, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস অফিসার জোনাকি ত্রিপুরা, প্রকল্পের কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট স্যাম ইউনিটের সুপারভাইজারসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে স্যাম ইউনিটে চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর

আপডেট: ০৯:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।
মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে (Severe Acute Malnutrition—SAM) আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও মানসম্মত করতে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যাম ইউনিটে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস ও চিকিৎসা উপকরণ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার সকালে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়।

হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির বাস্তবায়নে ‘Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা বলেন, ‘মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করায় হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এ সহায়তার মাধ্যমে এখন থেকে আমরা অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতদিন আমাদের লজিস্টিকসের ঘাটতি ছিল। এখন সেই ঘাটতিও পূরণ হয়েছে। আমরা আশাবাদী, এখন থেকে স্যাম শিশুদের যথাযথ সেবা দিতে পারব।’

হস্তান্তর করা সরঞ্জামগুলোর যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. অনুতোষ চাকমা।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘আমরা জেলার সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আধুনিক সদর হাসপাতালে স্যাম ইউনিট স্থাপনে সহযোগিতা করছি। খাগড়াছড়িতে যে পরিমাণ স্যাম ও ম্যাম শিশু শনাক্ত হয়েছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অচিরেই তা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা এ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্প সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা, পানছড়ি উপজেলা সমন্বয়কারী রাখী ত্রিপুরা, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস অফিসার জোনাকি ত্রিপুরা, প্রকল্পের কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট স্যাম ইউনিটের সুপারভাইজারসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।