১১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়ির গুইমারায় তিন শহীদের স্মরণে সভা, হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। খাগড়াছড়ির গুইমারায় ২০২৫ সালের রামেসু বাজারের ঘটনায় নিহত আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমাকে স্মরণ করে আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিহত জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন বক্তারা।

সোমবার গুইমারা রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট! জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান’—স্লোগানে কর্মসূচি শুরু হয়।

স্মরণসভায় ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সভাপতি রূপসি চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি ১ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সাবেক ইউপি সদস্য সুধুঅং মারমা ও দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা।

এর আগে একটি চৌকস দল তিন শহীদের প্রতিকৃতি স্থাপন করে। পরে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন সংগঠন ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে সাইরেন বাজিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং শপথ পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্র-জনতা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

শহীদ জুনান চাকমার মা রূপসি চাকমা বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর গুলিতে তার ছেলে জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরা নিহত হন। ছেলের হত্যার বিচার এখনো পাননি দাবি করে তিনি দ্রুত জুনান, রুবেল, অনিক, ধনঞ্জয় ও রামেসু বাজারের ঘটনায় নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

লক্ষ্মীছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারা রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ ও গুলির ঘটনায় আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। ঘটনার এক বছর পার হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি পাহাড়ে অধিকার, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

রেশমি মারমা বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে যেন কাউকে সহিংসতার শিকার হতে না হয়, সে জন্য কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি রামেসু বাজারের ঘটনাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উষাতন চাকমা রামেসু বাজারের ঘটনায় নিহত তিনজনের স্মরণে বক্তব্য দেন এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

স্মরণসভায় আগামী ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে সংগঠনটির উল্লেখ করা ভরদ্বাজ মুনির শহীদ দিবস উপলক্ষে কনভেনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

পরে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের পরিবেশনায় প্রতিবাদী নাট্যকলা প্রদর্শন করা হয়। এতে আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমার নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের সদস্যরা কয়েকটি কুশপুত্তলিকা লাঠিপেটা করে আগুনে পোড়ান।

Please Share This Post in Your Social Media

খাগড়াছড়ির গুইমারায় তিন শহীদের স্মরণে সভা, হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি

আপডেট: ১০:১৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। খাগড়াছড়ির গুইমারায় ২০২৫ সালের রামেসু বাজারের ঘটনায় নিহত আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমাকে স্মরণ করে আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিহত জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন বক্তারা।

সোমবার গুইমারা রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট! জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান’—স্লোগানে কর্মসূচি শুরু হয়।

স্মরণসভায় ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সভাপতি রূপসি চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি ১ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সাবেক ইউপি সদস্য সুধুঅং মারমা ও দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা।

এর আগে একটি চৌকস দল তিন শহীদের প্রতিকৃতি স্থাপন করে। পরে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন সংগঠন ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে সাইরেন বাজিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং শপথ পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্র-জনতা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

শহীদ জুনান চাকমার মা রূপসি চাকমা বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর গুলিতে তার ছেলে জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরা নিহত হন। ছেলের হত্যার বিচার এখনো পাননি দাবি করে তিনি দ্রুত জুনান, রুবেল, অনিক, ধনঞ্জয় ও রামেসু বাজারের ঘটনায় নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

লক্ষ্মীছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারা রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ ও গুলির ঘটনায় আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। ঘটনার এক বছর পার হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি পাহাড়ে অধিকার, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

রেশমি মারমা বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে যেন কাউকে সহিংসতার শিকার হতে না হয়, সে জন্য কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি রামেসু বাজারের ঘটনাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উষাতন চাকমা রামেসু বাজারের ঘটনায় নিহত তিনজনের স্মরণে বক্তব্য দেন এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

স্মরণসভায় আগামী ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে সংগঠনটির উল্লেখ করা ভরদ্বাজ মুনির শহীদ দিবস উপলক্ষে কনভেনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

পরে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের পরিবেশনায় প্রতিবাদী নাট্যকলা প্রদর্শন করা হয়। এতে আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমার নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের সদস্যরা কয়েকটি কুশপুত্তলিকা লাঠিপেটা করে আগুনে পোড়ান।