০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৫০ কিমি দূরের আগ্নেয়গিরির ছাই পৌঁছাল আকাশপথে, বন্ধ ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে তাঙ্গেরাংয়ের সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাই বিমান চলাচলের আকাশপথে পৌঁছে যাওয়ায় আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর রয়টার্স, আলজাজিরা ও এএফপির।

দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়ায় অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এ সময় লাভার প্রবল উদগীরণের পাশাপাশি বিকট শব্দ শোনা যায়। আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর থেকেও ওই শব্দ শোনা গেছে বলে জানানো হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ নিয়ে আগ্নেয়গিরিবিষয়ক সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে।

আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাই সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমায় শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সর্বশেষ পরীক্ষাতেও বিমানবন্দর এলাকায় আগ্নেয় ছাই ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সময় বাড়িয়ে রোববার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত করা হয়।

বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ২২ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাতিল বা প্রভাবিত হয়েছে ২০৯টি ফ্লাইট। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ও সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও এর প্রভাবে পড়েছে।

আনাক ক্রাকাতোয়া গত শতকের শুরু থেকে মাঝেমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছে। ১৮৮৩ সালে মাউন্ট ক্রাকাতোয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট আগ্নেয়গিরির গহ্বরেই আনাক ক্রাকাতোয়া গড়ে ওঠে।

১৮৮৩ সালের সেই অগ্ন্যুৎপাত ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত। এতে আনুমানিক ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি।

Please Share This Post in Your Social Media

১৫০ কিমি দূরের আগ্নেয়গিরির ছাই পৌঁছাল আকাশপথে, বন্ধ ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দর

আপডেট: ১২:০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে তাঙ্গেরাংয়ের সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাই বিমান চলাচলের আকাশপথে পৌঁছে যাওয়ায় আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর রয়টার্স, আলজাজিরা ও এএফপির।

দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়ায় অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এ সময় লাভার প্রবল উদগীরণের পাশাপাশি বিকট শব্দ শোনা যায়। আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর থেকেও ওই শব্দ শোনা গেছে বলে জানানো হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ নিয়ে আগ্নেয়গিরিবিষয়ক সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে।

আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাই সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমায় শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সর্বশেষ পরীক্ষাতেও বিমানবন্দর এলাকায় আগ্নেয় ছাই ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সময় বাড়িয়ে রোববার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত করা হয়।

বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ২২ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাতিল বা প্রভাবিত হয়েছে ২০৯টি ফ্লাইট। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ও সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও এর প্রভাবে পড়েছে।

আনাক ক্রাকাতোয়া গত শতকের শুরু থেকে মাঝেমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছে। ১৮৮৩ সালে মাউন্ট ক্রাকাতোয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট আগ্নেয়গিরির গহ্বরেই আনাক ক্রাকাতোয়া গড়ে ওঠে।

১৮৮৩ সালের সেই অগ্ন্যুৎপাত ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত। এতে আনুমানিক ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি।