০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কলকাতায় মাত্র দুদিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:১৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের প্রাণহানির পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলকাতায় অবস্থানরত হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক চরম বিপাকে পড়েছেন।

সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই নিউমার্কেট থানা এলাকা তথা মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার লাইসেন্স না থাকা, জরুরি নির্গমন পথ (সিঁড়ি) না থাকা এবং অপর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কারণে এসব হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি বিধি না মানায় অনেক হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশির মধ্যে ৭ হাজারই এই এলাকায় অবস্থান করছেন। হঠাৎ হোটেলগুলো বন্ধের নির্দেশ আসায় অনেক পর্যটককে মাঝপথেই কক্ষ ছাড়তে হয়েছে। অনেকে নতুন থাকার জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

হোটেল সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিকল্প হোটেল পাওয়া গেলেও দালালের মাধ্যমে সেগুলোর ভাড়া দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত বেশি দাবি করা হচ্ছে। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ জানান, সীমান্ত থেকে বাসগুলো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে এলেও কলকাতায় এখন থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল নেই। আশপাশের এলাকায় পর্যটকরা গেলেও সেখানে ভাড়া সাধারণ সময়ের চেয়ে তিন গুণ পর্যন্ত বেশি চাওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকার কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কলকাতা পুলিশ, পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি বর্তমানে নিউমার্কেট এলাকায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই এই অভিযানে অংশ নিয়ে কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেন।

হোটেল বন্ধ হওয়ায় নিউমার্কেটের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হোটেল মালিক থেকে শুরু করে রিকশাচালক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা চালুর পর যখন ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই সংকট তাদের জন্য বড় ধাক্কা।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান বজায় থাকবে।

সূত্র: কলকাতা পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

Please Share This Post in Your Social Media

কলকাতায় মাত্র দুদিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল

আপডেট: ০৫:১৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের প্রাণহানির পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলকাতায় অবস্থানরত হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক চরম বিপাকে পড়েছেন।

সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই নিউমার্কেট থানা এলাকা তথা মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার লাইসেন্স না থাকা, জরুরি নির্গমন পথ (সিঁড়ি) না থাকা এবং অপর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কারণে এসব হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি বিধি না মানায় অনেক হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশির মধ্যে ৭ হাজারই এই এলাকায় অবস্থান করছেন। হঠাৎ হোটেলগুলো বন্ধের নির্দেশ আসায় অনেক পর্যটককে মাঝপথেই কক্ষ ছাড়তে হয়েছে। অনেকে নতুন থাকার জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

হোটেল সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিকল্প হোটেল পাওয়া গেলেও দালালের মাধ্যমে সেগুলোর ভাড়া দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত বেশি দাবি করা হচ্ছে। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ জানান, সীমান্ত থেকে বাসগুলো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে এলেও কলকাতায় এখন থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল নেই। আশপাশের এলাকায় পর্যটকরা গেলেও সেখানে ভাড়া সাধারণ সময়ের চেয়ে তিন গুণ পর্যন্ত বেশি চাওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকার কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কলকাতা পুলিশ, পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি বর্তমানে নিউমার্কেট এলাকায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই এই অভিযানে অংশ নিয়ে কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেন।

হোটেল বন্ধ হওয়ায় নিউমার্কেটের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হোটেল মালিক থেকে শুরু করে রিকশাচালক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা চালুর পর যখন ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই সংকট তাদের জন্য বড় ধাক্কা।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান বজায় থাকবে।

সূত্র: কলকাতা পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।