বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত
- আপডেট: ০৪:৩০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধায় যশোরের শার্শায় মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬) সকাল ১০টায় যশোরের শার্শা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কাশিপুরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধিস্থলে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সমাধিস্থলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর উপ-অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমাদ, সহকারী পরিচালক মো. মাছেদুল ইসলাম খান, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় শাহাদতবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছা।
১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর), বর্তমান বিজিবিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭০ সালের জুলাইয়ে যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্স নায়েক পদে উন্নীত হন।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর সীমান্তের গোয়ালহাটি গ্রামে যুদ্ধকালীন টহলের দায়িত্বে ছিলেন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। এ সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁদের অবস্থান তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তাঁর সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হন।
সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে নূর মোহাম্মদ এক হাতে নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন এবং অন্য হাতে এলএমজি দিয়ে শত্রুর ওপর গুলি চালাতে থাকেন। এ সময় শত্রুর মর্টার শেলের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও তিনি পিছু হটেননি। সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসীম সাহস, বীরত্ব ও অনন্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে।






















