মহেশপুরে গণপিটুনিতে রাশেদ নিহতের থানায় মামলা
- আপডেট: ১০:৫৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের মহেশপুরে গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে রাশেদ শেখ (৪২) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে ভালাইপুর গ্রামের হেলাল খানকে (৩২)। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তিনি কাউকে মারধর করেননি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাতে নিহত রাশেদ শেখের স্ত্রী চুমকি বেগম বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, তাঁর স্বামীকে গরু চুরির সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে স্কুল মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১ নম্বর আসামি হেলাল খানের বক্তব্য, চুরি হওয়া গরুগুলো তাঁর আপন বড় ভাইয়ের। ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না; ঘটনার শেষ মুহূর্তে সেখানে যান। গণপিটুনির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের বিষয়।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
স্থানীয়ভাবে প্রচারিত ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ভালাইপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের গোয়াল থেকে বাছুরসহ গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় একই গ্রামের তহিদুল ইসলাম খাঁ (৭০) বিষয়টি দেখে ফেলেন। এ সময় তাঁর ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পরে রাশেদ শেখ, রাজেদুল ইসলাম (৩২) ও বজলুর রহমান বটুকে (৫০) ধরে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় রাশেদ শেখের মৃত্যু হয়। তবে কে কীভাবে মারধরে অংশ নিয়েছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের গুরুত্ব মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জমির হোসেন এর আগে জানিয়েছিলেন, বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী রাশেদ শেখকে গরু চুরির সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে স্কুল মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহেশপুর থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) ইসমাইল হোসেনও মামলাটি তদন্তাধীন থাকার কথা জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে মামলাটি চার্জশিট-সংক্রান্ত শুনানির পর্যায়ে রয়েছে এবং ১ নম্বর আসামি হেলাল খান জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তাঁদের ব্যক্তিগত ভূমিকা আদালতে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
নিরপেক্ষ বিচার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
হেলাল খানের দাবি, ঘটনার সময় তাঁর উপস্থিতি ও ভূমিকা সঠিকভাবে যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে নিরপেক্ষ সাক্ষ্য, নির্ভরযোগ্য নথি বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকলে সেগুলো আদালতে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা, অভিযোগের যথাযথ বিচার করা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অভিযুক্ত হয়ে থাকলে তাঁর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা—সবকিছুর স্বার্থেই প্রয়োজন নিরপেক্ষ বিচার ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারও যেন আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পায়, সেটিও প্রত্যাশিত।
মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভরশীল। তাই সব পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।






















