০৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪৭ দিনে শার্শায় কুকুরের কামড়ে ৫২৭ আক্রান্ত, বেনাপোলে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • /

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি :  যশোরের শার্শা উপজেলায় কুকুরের কামড়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

গত ৪৭ দিনে উপজেলায় কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৫২৭ জন। এ অবস্থায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে বেনাপোল পৌরসভায় শুরু হয়েছে পথকুকুরের টিকাদান কার্যক্রম।

গত সোমবার থেকে বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে পৌরসভা, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেনাপোল পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও জনবহুল স্থানে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে পথ কুকুর। অনেক সময় এসব কুকুর পথচারীদের তাড়া করছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ের ঘটনায় বাড়ছে ভোগান্তিও। এছাড়াও মানুষের গৃহপালিত পশু গরু-ছাগল, হাঁস মুরগিও কামড়ের শিকারে মারা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গত ৪৭ দিনে শার্শা উপজেলায় কুকুরের কামড়ে ৫২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেনাপোল পৌরসভায় কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় পৌর এলাকার পথ কুকুর শনাক্ত করে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বেনাপোল পৌরসভার কনজারভেন্সী ইন্সপেক্টর মো: দেলোয়ার হোসেন জানান, পথকুকুরের মধ্যে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম চালানো হবে।

বেনাপোল পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোছা: রাশিদা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, কুকুরের কামড়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এবিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, কুকুরের কামড়ের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত কুকুরের টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বেনাপোলে শুরু হওয়া টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে বেওয়ারিশ পথকুকুরের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমবে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কও কিছুটা দূর হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

৪৭ দিনে শার্শায় কুকুরের কামড়ে ৫২৭ আক্রান্ত, বেনাপোলে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু

আপডেট: ১০:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি :  যশোরের শার্শা উপজেলায় কুকুরের কামড়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

গত ৪৭ দিনে উপজেলায় কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৫২৭ জন। এ অবস্থায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে বেনাপোল পৌরসভায় শুরু হয়েছে পথকুকুরের টিকাদান কার্যক্রম।

গত সোমবার থেকে বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে পৌরসভা, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেনাপোল পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও জনবহুল স্থানে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে পথ কুকুর। অনেক সময় এসব কুকুর পথচারীদের তাড়া করছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ের ঘটনায় বাড়ছে ভোগান্তিও। এছাড়াও মানুষের গৃহপালিত পশু গরু-ছাগল, হাঁস মুরগিও কামড়ের শিকারে মারা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গত ৪৭ দিনে শার্শা উপজেলায় কুকুরের কামড়ে ৫২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেনাপোল পৌরসভায় কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় পৌর এলাকার পথ কুকুর শনাক্ত করে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বেনাপোল পৌরসভার কনজারভেন্সী ইন্সপেক্টর মো: দেলোয়ার হোসেন জানান, পথকুকুরের মধ্যে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম চালানো হবে।

বেনাপোল পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোছা: রাশিদা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, কুকুরের কামড়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এবিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, কুকুরের কামড়ের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত কুকুরের টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বেনাপোলে শুরু হওয়া টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে বেওয়ারিশ পথকুকুরের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমবে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কও কিছুটা দূর হবে।