তেরখাদায় তরুণীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য, সম্পত্তির বিরোধে পাঁচ স্বজনের বিরুদ্ধে বাবার অভিযোগ
- আপডেট: ০৬:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১২

খুলনা ব্যুরো: খুলনার তেরখাদায় ফুফুর বাড়ি থেকে বৃষ্টি খাতুন (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারছেন না বাবা কালাম মোল্লা।
তাঁর অভিযোগ, মেয়ের নামে থাকা জমি লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় নিজের দুই বোনসহ পাঁচ আত্মীয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এনে তেরখাদা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বৃষ্টির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ।
গত ২৫ অক্টোবর গভীর রাতে উপজেলার আঞ্চনগাতী গ্রামে ফুফুর বাড়ি থেকে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের বরাত ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির একটি ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। বৃষ্টির বাড়ি উপজেলার পূর্ব কাটেঙ্গা এলাকায়। প্রবাসী আকাশ গাজীর সঙ্গে মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন কালাম মোল্লা। অভিযোগে তিনি নিজের দুই বোন তাহলিমা বেগম (৫৫) ও নাজমা বেগম (৪০), ভাগনে নাজিম সরদার (৩৫), ভাগনি আফরোজা বেগম (২৭) এবং মেয়ের জামাই শীন ইসলামের (৩৭) নাম উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে কালাম মোল্লা দাবি করেন, তাঁর মেয়ে খুলনার আয়শা সিদ্দিকিয়া মহিলা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। প্রায় দুই বছর আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর। বৃষ্টির নামে সম্পত্তি থাকায় তাঁকে নিজেদের কাছে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েও সফল হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন কালাম মোল্লা। তাঁর ভাষ্য, গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে মেয়ের নামে থাকা সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল বলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন। এ সময় বৃষ্টিকে নির্যাতন করা এবং চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
কালাম মোল্লার অভিযোগ, গত ২৫ অক্টোবর রাতে তেরখাদা থানা থেকে ফোন করে তাঁকে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে থানায় গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ দেখেন। তাঁর দাবি, মরদেহ গোসল করানোর সময় বৃষ্টির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। মেয়ের নামে থাকা জমি লিখে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এনে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, সম্পত্তির লোভে তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






















