১২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

বাঘারপাড়ায় ৯২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় সভা : থাকবে সিসি ক্যামেরা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪

সাঈদ ইবনে হানিফ, বাঘারপাড়া (যশোর) : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে যশোরের বাঘারপাড়া থানার আয়োজনে উপজেলার ৯২টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বাঘারপাড়া থানায় আয়োজিত এ সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সভাপতিত্বে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পূজা চলাকালীন করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং মণ্ডপের আশপাশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ডকে সন্দেহজনক মনে হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে শেষ রাত পর্যন্ত মণ্ডপগুলোতে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত থানার পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের বিষয়টি অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় বাঘারপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু, জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন এবং নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পূজামণ্ডপে ডিজে গান ও অশালীন ধরনের গান না বাজানোর আহ্বান জানানো হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে—এমন কোনো গান বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে অনুষ্ঠানে ধর্মীয় গান পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, পূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধেরও প্রতীক। তাই দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, পূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির নিজস্ব বলয়ের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।#

Please Share This Post in Your Social Media

বাঘারপাড়ায় ৯২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় সভা : থাকবে সিসি ক্যামেরা

আপডেট: ১০:০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সাঈদ ইবনে হানিফ, বাঘারপাড়া (যশোর) : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে যশোরের বাঘারপাড়া থানার আয়োজনে উপজেলার ৯২টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বাঘারপাড়া থানায় আয়োজিত এ সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সভাপতিত্বে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পূজা চলাকালীন করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং মণ্ডপের আশপাশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ডকে সন্দেহজনক মনে হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে শেষ রাত পর্যন্ত মণ্ডপগুলোতে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত থানার পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের বিষয়টি অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় বাঘারপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু, জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন এবং নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পূজামণ্ডপে ডিজে গান ও অশালীন ধরনের গান না বাজানোর আহ্বান জানানো হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে—এমন কোনো গান বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে অনুষ্ঠানে ধর্মীয় গান পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, পূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধেরও প্রতীক। তাই দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, পূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির নিজস্ব বলয়ের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।#