আদালত ও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দর্শনায় বৃদ্ধ চা দোকানির জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট: ০৭:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৭

আজাদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :
বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা (স্থিতিতাবস্থা) ও উপজেলা ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন তোয়াক্কা না করে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বেগমপুর (বিলপাড়া) গ্রামে এক বৃদ্ধ চা দোকানির জমি জোরপূর্বক দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, জমিতে বাধা দিতে গেলে ওই বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বেগমপুর বিলপাড়া নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৬১)। তিনি বেগমপুর (বিলপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের প্রধানের ছেলে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম জানান, ১৯৯০ সালে তিনি বেগমপুর বিলপাড়া মাঠে ৩০ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। ২০২৩ সালের ২৭ জুন একই এলাকার হাবিবুর রহমান বেঙ্গার ছেলে মোঃ জাকির হোসেন (৩৮) জোরপূর্বক তাঁর ক্রয়কৃত জমির মধ্য থেকে ৭ শতক জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়।
এর প্রতিকার চেয়ে তিনি ২০২৩ সালের ৫ জুলাই বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে তদন্তের নির্দেশ দেন। এসিল্যান্ডের শুনানিতে বিবাদী জাকির হোসেন জমির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন এবং এসিল্যান্ড সিরাজুল ইসলামের পক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত উক্ত সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্থিতিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার রায় প্রদান করেন (পিটিশন কেস নং- ১৫০/২০২৩)। আদালতের এই আদেশের প্রেক্ষিতে বেগমপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মোমিন উভয় পক্ষকে লিখিত নোটিশ দিয়ে বিরোধীয় জমিতে যেকোনো ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিবাদী জাকির হোসেন অত্যন্ত দাঙ্গাবাজ ও লাঠিয়াল প্রকৃতির হওয়ায় আদালতের নির্দেশ ও পুলিশের নোটিশ সম্পূর্ণ অমান্য করে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকে পুনরায় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জোরপূর্বক পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেছে। তিনি এতে বাধা দিতে গেলে জাকির ও তার লোকজন তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর করতে উদ্যত হয়। এমনকি ওই জমিতে পুনরায় গেলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিবাদীর এমন হুমকিতে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়ে গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তিনি দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা এবং বৈধ জমি রক্ষার্থে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন





















