১১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

যশোর বেনাপোল মহাসড়কের দুপাশের গাছজুড়ে সাইনবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুন : ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছ, নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য্য

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে থাকা গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে বিজ্ঞাপনের খুঁটি হিসেবে।

গাছের কাণ্ডে পেরেক, তার ও ধাতব বস্তু ব্যবহার করে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। এতে একদিকে মহাসড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গাছগুলো।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুপাশের গাছে পেরেক ও তার দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, রাজনৈতিক সংগঠন, কোচিং ও ঘটকসহ নানা ধরনের প্রচারণামূলক সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন লাগানো রয়েছে। কোথাও পুরোনো ফেস্টুন সরিয়ে নতুন ফেস্টুন লাগানো হয়েছে, আবার কোথাও একই গাছে একাধিক ফেস্টুন ঝুলতে দেখা গেছে। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা গাছগুলোর স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গাছকে বিজ্ঞাপনের খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বিষয়টি বন্ধে নিয়মিত ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। একটি ফেস্টুন বা সাইনবোর্ড সরানোর কিছুদিন পরই একই জায়গায় নতুন করে বিজ্ঞাপন লাগানো হচ্ছে। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

শুধু সৌন্দর্য্য নষ্ট নয়, গাছের কাণ্ডে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন লাগানোর কারণে গাছেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবেশবিদদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গাছের কাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষত দিয়ে পানি, জীবাণু ও অণুজীব প্রবেশ করতে পারে, যা ধীরে ধীরে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গাছ নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ২০১৬ সালে মহাসড়কের দুই পাশে থাকা শতবর্ষী গাছ সংরক্ষণের দাবি উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গাছ ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক গাছ সামান্য বাতাসেই উপড়ে পড়েছে।

এদিকে বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী গণপরিসরের সংজ্ঞার মধ্যে সড়কের পাশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনের ৯(১৩) ধারায় বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে বৃক্ষের ক্ষতিসাধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১০(৩) ধারায় এ বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনটি ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের গাছগুলোতে নতুন করে সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো বন্ধের পাশাপাশি যেসব গাছে পেরেক বা ধাতব বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোও অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কেউ গাছকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন অধিদপ্তরের ডেপুটি রেঞ্জার আরিফুল আলম বলেন, গাছে পেরেক দেখলে তা সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলার নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করবেন। তিনি আরও বলেন, পৌরসভার অভ্যন্তরে গাছে লাগানো পেরেক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন পৌরসভা চাইলে সরিয়ে দিতে পারে।

যশোর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এম. এ. মনজু বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশের এসব গাছের দেখাশোনার দায়িত্ব জেলা পরিষদের। গাছের গায়ে সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানোর বিষয়টি তারা অবগত আছেন। গাছে পেরেক মারা অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে বৃক্ষপ্রেমী আব্দুল ওয়াহেদের মাধ্যমে গাছের গায়ে লাগানো ব্যানার ও পেরেক খুলে ফেলা হয়েছিল।

তবে অভিযান পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকা জরুরি। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা বা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে তাদের পক্ষে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাইলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন বলেও জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

যশোর বেনাপোল মহাসড়কের দুপাশের গাছজুড়ে সাইনবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুন : ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছ, নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য্য

আপডেট: ১১:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে থাকা গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে বিজ্ঞাপনের খুঁটি হিসেবে।

গাছের কাণ্ডে পেরেক, তার ও ধাতব বস্তু ব্যবহার করে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। এতে একদিকে মহাসড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গাছগুলো।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুপাশের গাছে পেরেক ও তার দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, রাজনৈতিক সংগঠন, কোচিং ও ঘটকসহ নানা ধরনের প্রচারণামূলক সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন লাগানো রয়েছে। কোথাও পুরোনো ফেস্টুন সরিয়ে নতুন ফেস্টুন লাগানো হয়েছে, আবার কোথাও একই গাছে একাধিক ফেস্টুন ঝুলতে দেখা গেছে। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা গাছগুলোর স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গাছকে বিজ্ঞাপনের খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বিষয়টি বন্ধে নিয়মিত ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। একটি ফেস্টুন বা সাইনবোর্ড সরানোর কিছুদিন পরই একই জায়গায় নতুন করে বিজ্ঞাপন লাগানো হচ্ছে। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

শুধু সৌন্দর্য্য নষ্ট নয়, গাছের কাণ্ডে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন লাগানোর কারণে গাছেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবেশবিদদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গাছের কাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষত দিয়ে পানি, জীবাণু ও অণুজীব প্রবেশ করতে পারে, যা ধীরে ধীরে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গাছ নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ২০১৬ সালে মহাসড়কের দুই পাশে থাকা শতবর্ষী গাছ সংরক্ষণের দাবি উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গাছ ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক গাছ সামান্য বাতাসেই উপড়ে পড়েছে।

এদিকে বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী গণপরিসরের সংজ্ঞার মধ্যে সড়কের পাশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনের ৯(১৩) ধারায় বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে বৃক্ষের ক্ষতিসাধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১০(৩) ধারায় এ বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনটি ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের গাছগুলোতে নতুন করে সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো বন্ধের পাশাপাশি যেসব গাছে পেরেক বা ধাতব বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোও অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কেউ গাছকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন অধিদপ্তরের ডেপুটি রেঞ্জার আরিফুল আলম বলেন, গাছে পেরেক দেখলে তা সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলার নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করবেন। তিনি আরও বলেন, পৌরসভার অভ্যন্তরে গাছে লাগানো পেরেক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন পৌরসভা চাইলে সরিয়ে দিতে পারে।

যশোর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এম. এ. মনজু বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশের এসব গাছের দেখাশোনার দায়িত্ব জেলা পরিষদের। গাছের গায়ে সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানোর বিষয়টি তারা অবগত আছেন। গাছে পেরেক মারা অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে বৃক্ষপ্রেমী আব্দুল ওয়াহেদের মাধ্যমে গাছের গায়ে লাগানো ব্যানার ও পেরেক খুলে ফেলা হয়েছিল।

তবে অভিযান পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকা জরুরি। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা বা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে তাদের পক্ষে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাইলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন বলেও জানান তিনি।