লাহুড়িয়ায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড চেয়ারম্যান কামরান শিকদার
- আপডেট: ০৮:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭

নড়াইল প্রতিনিধিঃ গভীর নলকূপ, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সরকারি ঘর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় ও দুস্থদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম ওরফে কামরান শিকদার ও তার ভাই এস এম সজীব ওরফে রোম শিকদারের বিরুদ্ধে।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম ওরফে কামরান শিকদার এবং তার ভাই এস এম সজীব ওরফে রোম শিকদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের দুস্থ ও অসহায় মানুষকে টার্গেট করে গভীর নলকূপ, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সরকারি ঘর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কামরান ও রোম শিকদারের বাবা স্বৈরাচারের দোসর লোহাগড় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান রুনু শিকদারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ৮৫ পাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী বিধবা হাশিয়া বেগম, বিধবা তহুরন বেগম, টিপু শেখের স্ত্রী শিল্পী বেগম, মর্জিনা খানম এবং ব্যবসায়ী পাড়ার তায়েজ বিশ্বাসের ছেলে শহিদুল বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, নারীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করাসহ গভীর নলকূপ, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সরকারি ঘর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কামরান চেয়ারম্যান ও তার ভাই রোম তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে কামরান চেয়ারম্যানের অনুসারী লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য এবং স্বৈরাচারের দোসর লাহুড়িয়া ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিকদার রিয়াজ আহম্মদসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শিকদার রিয়াজ আহম্মদকে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করার একটি ভিডিও দেখা গেছে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, কামরান চেয়ারম্যান ও তার ভাই রোম বিদেশে থাকা এবং চাকরিজীবী সুন্দরী নারীদের টার্গেট করেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অন্যদিকে, আরেক ভুক্তভোগী লাহুড়িয়া ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পারভিন বেগম বিচার চেয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম ওরফে কামরান শিকদারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।





















