বেনাপোল স্থলবন্দরে চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর বার্তা দিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট: ১২:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কোনোভাবেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচার করা যাবে না। চোরাচালান রোধে এবং সঠিক উপায়ে রাজস্ব আদায়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বেনাপোল কাস্টমস হাউস মিলনায়তনে কাস্টমস কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বেনাপোল দেশের বৃহত্তম ও আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় এ পথে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করা যায়। তবে এই বন্দরকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেছেন যশোর-২ ঝিকরগাছা-চৌগাছা সংসদ সদস্য সাবেরা নাজমুন মুন্নী। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
মতবিনিময় সভায় কাস্টমসের পক্ষ থেকে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন সহকারী কমিশনার অতুল কুমার। এছাড়া কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, বন্দরের পণ্য ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্টের ঘাটতি রয়েছে এবং রপ্তানি বাড়াতে কাজ করতে হবে বলে ও ব্যবসায়িদের নিকট দাবি করেন।
বেনাপোলের ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, এক সময় এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে এই যাত্রী যাতায়াত আবারও বৃদ্ধি পাবে। তবে বর্তমান আমদানি-রপ্তানির গতি সচল রাখতে বেনাপোল থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত ৬ লেনের সড়ক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এরপর বিকেল ৫টার দিকে প্রতিমন্ত্রী বেনাপোল পৌর গেটে পৌঁছান। সেখানে বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারতের উদ্যোগে আয়োজিত বৃরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন এবং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাড়ে ১০ হাজার গাছ রোপণ করেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্ষা মৌসুম শেষে গাছগুলো যাতে বেঁচে থাকে, সেজন্য নিয়মিত পানি দিয়ে পরিচর্যা করার আহ্বান জানান তিনি। পরে তিনি পৌর গেটের আশপাশের রোপিত গাছগুলো পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে উলশী জিয়া খাল ও তালবাগান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এসময় বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ও পৌর গেটে মুর্হুমুর্হু স্লোগানের জোয়ার দেখা যায় উপস্থিত নেতা কর্মীদের মাঝে ভারত ভাই এগিয়ে চল আমরা আছি তোমার সাথে। তৃপ্তি ভাই এগিয়ে চল আমরা আছি তোমার সাথে। শত শত নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে একটি জনসমুদ্র পরিনত হয়।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ও পৌর গেটে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ শার্শা আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবেরা নাজমুন মুন্নী, যশোর-১ শার্শা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খাইরুজ্জামান মধু, সভাপতি আবুল হাসান জহির, সহ-সভাপতি মহসিন কবির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি নাসিমুল গনি বল্টু, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত, নাভারণ সার্কেলের এএসপি আরিফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজন প্রমুখ।
বেনাপোল পৌর গেটে প্রতিমন্ত্রীর সমাবেশে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবু তাহের ভারত।





















