বাঘারপাড়ার চিত্রা নদীর বুকে বাঁশের সাঁকো : দুই পাড়ের মানুষ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের দাবি
- আপডেট: ০৮:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১২

সাঈদ ইবনে হানিফ : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের চিত্রা নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—একটি ব্রীজ।
বছরের পর বছর ধরে নদী পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছোট ক্ষুদ্র, বড় ক্ষুদ্রা ও প্রেমচরা গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চিত্রা নদীর দুই পাড়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু নদীর ওপর কোনো ব্রীজ না থাকায় তাদের চলাচল নির্ভর করছে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোর ওপর। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, ছেলে-মেয়েদের স্কুল-মাদ্রাসায় যাওয়া, কৃষিপণ্য বাজারজাত করা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মস্থলে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই তাদের সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
দুই পাড়ের মানুষের পারাপারের কথা বিবেচনা করে স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে চিত্রা নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। বর্তমানে এটিই তাদের একমাত্র ভরসা। তবে অস্থায়ী এই সাঁকো দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “বাঁশের সাঁকো দিয়ে আর কতদিন? একটি ব্রীজ নির্মাণ হলে শুধু নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগই সহজ হবে না, শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।”
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবির বিষয়ে কথা বলেছেন বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছবদুল হোসেন খান। তিনি জানান, নদীর দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ হলে এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
এদিকে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি জানতে পেরে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভূপালী সরকার এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও যোগাযোগ সমস্যার কথা শোনেন।
পরিদর্শনকালে চিত্রা নদীর দুই পাড়ের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও নিরাপদ যোগাযোগের জন্য সেখানে একটি ব্রীজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন ইউএনও ভূপালী সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে চিত্রা নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে নদীর দুই পাড়ের মানুষ এবং যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বন্দবিলা ইউনিয়নের এই জনপদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন একটাই—আর কতদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হবে? তাদের প্রত্যাশা, এবার বাস্তবায়িত হবে একটি স্থায়ী ব্রীজের স্বপ্ন।





















