শার্শায় পটপরিবর্তনের সুযোগে ব্যবসায়ীর ৩৫ বিঘা মাছের ঘের দখল ও ৬০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
- আপডেট: ০৪:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে শার্শা উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামে এক ব্যবসায়ীর ৩৫ বিঘা জমির মাছের ঘের জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।
প্রাণভয়ে বর্তমানে বাড়িছাড়া রয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তবিবুর রহমান। অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ওরফে ঝনুর পক্ষ থেকে ৬০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং টাকা না দিলে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে এমনটি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ঝনু স্বরুপদাহ গ্রামের জোহর আলী গাজীর ছেলে এবং ভুক্তভোগী তবিবুর রহমান একই গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে (৫৪)।
ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির জানান, একসময় হুমায়ুন কবির ঝনুর সাথে তার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে হুমায়ুন অস্ত্রসহ ঢাকায় আটক হওয়ার পর তিনি তার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। সে সময় জেল থেকে বের হয়ে আসার পর আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন।
তবিবুর আরও জানান, আমি হুমায়ুনের কাছে ব্যবসায়িক হিসাবের প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা পাব। উল্টো সে আমার কাছে ৬০ লাখ টাকা দাবি করছে এবং এলাকায় বসতে দিচ্ছে না। প্রাণের ভয়ে আমি এখন বাড়ি ছাড়া। আমার ৩৫ বিঘা জমির মাছের ঘেরটিও সে জবরদখল করে রেখেছে এবং আমাদের ঘেরে মাছ ধরতে দিচ্ছে না।”
ভুক্তভোগীর বাবা ইউসুফ আলী বলেন, “আমাদের ঘেরে আমাদেরই জাল ফেলতে দেয় না ঝনুর লোকজন। এর মধ্যে আমরা জাল ফেললে জাল ছিনিয়ে নিয়ে ঘের থেকে তাড়িয়ে দেয়।”
গ্রামবাসী শরিফুল, সফিকুল ও হাফিজুরসহ একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, এই মাছের ঘেরটি সম্পূর্ণভাবে তবিবুর রহমানের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝনুর পক্ষ থেকে তাকে ঘেরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এর আগে কখনোই তবিবুর রহমানকে কেউ বাধা দেয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তবিবুর বাড়ি ছাড়া এবং তার ঘেরটিও হাতছাড়া হয়ে গেছে।
এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে হুমায়ুন কবির ঝনু বলেন, “আমি তার নিকট কোনো ৬০ লাখ টাকা দাবি করিনি। বরং আমাকে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর যে ক্ষতি হয়েছে, মামলার সেই সমস্ত খরচ তাকে দিতে হবে। আমাকে নাভারণ গরুর হাটের সামনে থেকে তুলে নিয়ে ঢাকার মুগদা থানায় অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল, যা তবিবুর রহমান এর কারসাজিতেই হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘেরটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আমি সেই ঘের থেকে কোনো মাছ ধরছি না। বর্ষার মৌসুমে পানিতে ঘের ভেসে গিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে মাছ প্রবেশ করলে হয়তো গ্রামের লোকজন তা ধরতে পারে। তবে আমার মামলার খরচ তাকেই দিতে হবে। আমি তাকে স্থানীয় নেতাদের সাথে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার কথা বললেও সে কর্ণপাত করছে না।”
এঘটনায় তবিবুর রহমান এর মা সহিতা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে বাড়িতে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।
আমাদের জমিতে মাছের ঘের অথচ আমাদের দখল নিতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা এর বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে থানায় বা আদালতে কোন অভিযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এমনিতেই হুমকির মুখে আছি। অভিযোগ করলে কেউ বাড়ি থাকতে পারব না।





















