বন্ধ থাকা সব চিনি শিল্পসহ সকল উৎপাদনমুখী কারখানা চালুর পরিকল্পনা সরকারের- বিএসএফআইসি’র চেয়ারম্যান
- আপডেট: ০৩:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২১

আজাদ হোসেন, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামছুজ্জামান সুরুজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় চিনি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো দেশের সব কারখানার চাকা সচল রাখা। এসব চিনিকল লাভজনক করতে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার কথা বলছেন চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান।
তবে, শুধু কারখানা চালু নয়, দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদও রয়েছে। সেই আলোকে বন্ধ থাকা সরকারি সব চিনিকল পর্যায়ক্রমে চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করনে সরকার কাজ করছে। চিনিশিল্পকে আধুনিকীকরণ করতে নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নতুন যন্ত্র, মেশিনপত্র ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। দক্ষ শ্রমিক- কর্মচারীদের অভাব পূরন করতে নতুন নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে দক্ষ করে তুলতে হবে। কারণ এক সময় দেশে চিনির চাহিদার বড় অংশ মেটাতো সরকারি চিনিকলগুলো। ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের ছয়টি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
এগুলো হলো শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর চিনিকল। এতে সংকটে পড়ে হাজার হাজার শ্রমিক ও আখচাষি। চিনিকল শুধু চিনি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং লাখো আখচাষির জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং স্থানীয় সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কারণ বন্ধ কারখানাগুলো চালু হলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং সেই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে।
শামছুজ্জামান সুরুজ আরও বলেন, আখ চাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম ও প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে ,গত অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাষিদের প্রণোদনার পরিমাণ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে। চাষিদের দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য একটি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে আখের ওজন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাষির মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। আগে কয়েকটি টেবিল ঘুরে অর্থ পেতে যে সময় লাগত, এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় তা তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি সফটওয়্যারের মাধ্যমে চাষিদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও চাষাবাদসংক্রান্ত পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি চিনিকলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এজন্য এ চিনি শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানি চিনিকল পরিদর্শনকালে প্রধান প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ এসব কথা বলেন।
মত বিনিময় সভা দর্শনার কেরু এ্যান্ড কোম্পানি
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। শিল্প মন্ত্রণালয় যুগ্মসচিব (অডিট), মো.আব্দুল ওয়াহেদ, বিএসএফ আইসিএর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বাণিজ্যিক-অডিট) মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার, অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালক (অর্থ) আজহারুল ইসলাম, খুলনা উপপরিচালক বাণিজ্যিক অডিট নাসিফ কবির, মো.শফিকুল ইসলাম,জীবন্নাহার, কেরু বাণিজ্যিক খামার ইনচার্জ সুমন কুমার সাহা,ডিহি খামার ইনচার্জ ইমদাদুল হকসহ চিনিকলের কর্মকর্তা, কর্মচারী, কেরু শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






















