চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে
- আপডেট: ০৩:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮

আজাদ হোসেন, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের প্রভাবে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর ভর্তি। তবে চিকিৎসা নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগও রয়েছে স্বজনদের। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে পানিশূন্যতা ও সংক্রমণের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৭৬ জন। এর আগে ২৮ আগস্ট ভর্তি হয়েছে ৫৬ জন, ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরে ১৮ জন।
২৬ আগস্ট ভর্তি হয়েছে ৫৬ জন, কিন্তু পরদিন ছাড়পত্র পায় মাত্র ১৮ জন। ১৫ আগষ্ট থেকে এধরনের রোগীদের ভর্তির সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এতে প্রতিদিনই ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং শয্যার ওপর চাপও বেড়েছে।
শুধু ডায়রিয়াই নয়, শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগীও বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
গত দুই দিন ধরে আমার শিশুর ডায়রিয়া ও জ্বর। হাসপাতালে ভর্তি করেছি। রোগীর চাপ অনেক বেশি। আমরা চাই দ্রুত ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও অনেক সময় চিকিৎসকদের নিয়মিত পাওয়া যায় না। ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা পেতে অপেক্ষাও করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে তাদের বক্তব্যে জানায়,তীব্র গরমে শিশু রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের শিশুদের পর্যাপ্ত পানি, নিরাপদ খাবার ও পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে শিশুদের ঘন ঘন বিশুদ্ধ পানি পান করানো, ওআরএস ব্যবহার, বাসি খাবার এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা জরুরি। এতে ডায়রিয়া ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রতিদিনই হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ভর্তি হওয়ার তুলনায় ছাড়পত্র পাচ্ছে কমসংখ্যক রোগী। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের সেবার মান আরও জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।





















