আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেভেরোদোনেতস্কে রুশ বাহিনীর ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শহরটির ৬০ শতাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। সেভেরোদোনেতস্ক শহরের মেয়রের বরাত দিয়ে শুক্রবার আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ইউক্রেনের পূর্বে ভয়াবহ লড়াইয়ের কেন্দ্র সেভেরোদোনেতস্ক শহরের মেয়র অলেক্সান্ডার স্ট্রিউক বলেন, অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মাত্র ১২ জনকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার মানুষ শহরে রয়ে গেছেন, যেখানে ৬০ শতাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইউক্রেনীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দোনবাসের লুহানস্ক অঞ্চলের একমাত্র অংশ এ সেভেরোদোনেতস্ক। রুশ বাহিনী এটিকে ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দোনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা অঞ্চলটিকে ‘জনশূন্য’ করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, রুশ বাহিনী (ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর) পোপাসনা, লিসিচানস্ক ও সেভেরোদোনেতস্ক শহরকে ছাইয়ে পরিণত করতে চায়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী।

যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ। আর অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৮০ লাখের বেশি লোক।

সূত্র জানায়, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ইউক্রেনের শহরগুলো ঘিরে রেখেছে রুশ সামরিক বাহিনী; হামলা চলছে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও।

রাশিয়ার গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খারকিভ শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।