১২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বেনাপোলে আননূর একাডেমির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩

বেনাপোলে আননূর একাডেমির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বেনাপোলের দীঘিরপাড় এলাকায় ‘আননূর একাডেমি’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়, শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিবহন এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ইজিবাইকে স্কুলে যাতায়াতের দৃশ্য সামনে আসার পর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা।

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌর এলাকার দীঘিরপাড়ের ভববেরবেড় মৌজায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে চারতলা একটি ভাড়া ভবনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের পরিচালনায় কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সারি শ্রেণি থেকেই বাংলা ও হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন শুরু হয় ৩ হাজার টাকা থেকে। শ্রেণিভেদে বেতনের পরিমাণ বাড়ে। হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও মাসিক ২ হাজার টাকা বেতন নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য নির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী দৈনিক ১১৬ টাকা হিসাবে মাসে প্রায় ৩ হাজার ৪৭০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এ ছাড়া পরীক্ষা ফিসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, এ ধরনের ব্যয় অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য বহন করা কঠিন।

প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব স্কুলবাস অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের পরিবহনে বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ইজিবাইকে করে স্কুলে যাতায়াত করছে।

সম্প্রতি সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গাতীপাড়াগামী একটি ইজিবাইকে চালকসহ মোট ১৫ জনকে নিয়ে চলাচল করা হচ্ছে। এতে ১৩ জন শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ব্যস্ত যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ইজিবাইকচালক মুরাদ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি আইনকানুন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের ইচ্ছামতো চলাচলের কথা বলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি সরিয়ে নিতে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর সম্প্রতি দুপুরে একাডেমিতে গিয়ে ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে শিক্ষকদের বৈঠক করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ও ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সরাসরি চালকদের সঙ্গে চুক্তি করে না; অভিভাবকেরাই চালকদের সঙ্গে চুক্তি করেন। তাই পরিবহনের বিষয়টি তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে তিনি দাবি করেন। তবে শিক্ষার্থীরা এভাবে যাতায়াত করে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু শিশুদের পাঠদান করেই দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়েও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

প্রতিষ্ঠানটির পরিবহন ব্যবস্থা ও ফি আদায়ের বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানের ফি কাঠামো যাচাই এবং অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যশোর জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা কার্যালয়, শার্শা উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ, কার্যকর তদারকি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

বেনাপোলে আননূর একাডেমির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ১১:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বেনাপোলে আননূর একাডেমির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বেনাপোলের দীঘিরপাড় এলাকায় ‘আননূর একাডেমি’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়, শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিবহন এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ইজিবাইকে স্কুলে যাতায়াতের দৃশ্য সামনে আসার পর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা।

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌর এলাকার দীঘিরপাড়ের ভববেরবেড় মৌজায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে চারতলা একটি ভাড়া ভবনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের পরিচালনায় কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সারি শ্রেণি থেকেই বাংলা ও হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন শুরু হয় ৩ হাজার টাকা থেকে। শ্রেণিভেদে বেতনের পরিমাণ বাড়ে। হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও মাসিক ২ হাজার টাকা বেতন নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য নির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী দৈনিক ১১৬ টাকা হিসাবে মাসে প্রায় ৩ হাজার ৪৭০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এ ছাড়া পরীক্ষা ফিসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, এ ধরনের ব্যয় অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য বহন করা কঠিন।

প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব স্কুলবাস অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের পরিবহনে বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ইজিবাইকে করে স্কুলে যাতায়াত করছে।

সম্প্রতি সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গাতীপাড়াগামী একটি ইজিবাইকে চালকসহ মোট ১৫ জনকে নিয়ে চলাচল করা হচ্ছে। এতে ১৩ জন শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ব্যস্ত যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ইজিবাইকচালক মুরাদ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি আইনকানুন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের ইচ্ছামতো চলাচলের কথা বলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি সরিয়ে নিতে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর সম্প্রতি দুপুরে একাডেমিতে গিয়ে ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে শিক্ষকদের বৈঠক করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ও ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সরাসরি চালকদের সঙ্গে চুক্তি করে না; অভিভাবকেরাই চালকদের সঙ্গে চুক্তি করেন। তাই পরিবহনের বিষয়টি তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে তিনি দাবি করেন। তবে শিক্ষার্থীরা এভাবে যাতায়াত করে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু শিশুদের পাঠদান করেই দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়েও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

প্রতিষ্ঠানটির পরিবহন ব্যবস্থা ও ফি আদায়ের বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানের ফি কাঠামো যাচাই এবং অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যশোর জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা কার্যালয়, শার্শা উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ, কার্যকর তদারকি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।