ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট: ০৭:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ২২

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের ঝিকরগাছার সদর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামের হাসপাতাল রোডে মহানগর এলাকায় অবস্থিত রওজাতুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হিসাবে পরিচালকের জামাতা, পরিচালক নিজেই কমিটির সেক্রেটারি এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকতার দায়িত্বে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে।
জানা যায় ২০২১ সালে স্ত্রী রুবিনা খাতুনের নামে কেনা পাঁচ শতক জমির ওপর দুই কামরার ঘরে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও বায়তুল আকসা মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রহমান। মাদ্রাসাটি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বোর্ড, ঢাকা কতৃক নিবন্ধিত। যার নং ইলহাক-ম-৬/৩৩২০
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জন আবাসিক। তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি সংকীর্ণ কক্ষে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে।পরিচালক আব্দুর রহমান জানান, মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগ ও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। নাজেরা বিভাগের দায়িত্বে তাঁর স্ত্রী রুবিনা বেগম এবং হিফজ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর বড় মেয়ে হাফেজা হাফসা খাতুন।
পরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে ১১ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁর বড় জামাতা হাবিবুর রহমান রাফি সভাপতি এবং তিনি নিজে সেক্রেটারি ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বাকি সদস্যদের মধ্যে মাত্র ২/৩ জনের নাম বলতে পেরেছেন তিনি। কমিটির পূর্ণাঙ্গ লিখিত তালিকা দিতে পারেননি এবং নিয়মিত সভা হয় না বলেও জানিয়েছেন।
আবু বক্কার সিদ্দিক নামের একজন অভিভাবক বলেন, আমি আমার মেয়েকে ঐ মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু ওখানকার বাচ্চাদের থাকার পরিবেশ ভালোনা এবং বাচ্চাদের শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। এজন্য আমি আমার বাচ্চাকে ওখান থেকে এনে স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি।
ঝিকরগাছা সরকারি এমএল হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাছিম বিল্লাহ শিশু একাডেমির অধ্যক্ষ এসএম মাহবুবুল আলম মন্টু বলেন, মাদ্রাসাটির সুচনা লগ্নে আমি সাথে ছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসার নামে জমি না লিখে দিয়ে নিজ বাড়িতে মাদ্রাসা কায়েম করা ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে পারিবারিক ভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় আমি সেখান থেকে সরে আসি।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাইফুল্লাহ বলেন, এই বিষয়টি অবগত ছিলাম না। মাদ্রাসাটি কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেটা তিনি দেখবেন বলে জানান।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের দায়িত্ব পালন এবং পরিচালনা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদর্শন করতে না পারার বিষয়টি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। উল্লেখ্য উক্ত মাদ্রাসার পরিচালকের হাতে এতিম দুই জমজ বোন যৌন নিপীড়নের শিকার সম্পর্কে নিউজ প্রকাশিত হবার পর বর্তমানে মাদ্রাসাটি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।





















