০১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

দেবতার আসনে বাবা-মা: মাগুরার সিংড়া গ্রামে গৌতমের মানবিক উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৪

​দীনবন্ধু মজুমদার, মাগুরা: ​মাটির প্রতিমায় দেবীর আরাধনার পাশাপাশি জীবন্ত দেবতারূপে বাবা-মায়ের বন্দনা—এমনই ভক্তি ও মানবিকতার অপূর্ব মেলবন্ধনে দুর্গোৎসবের নবমী তিথিতে অন্য এক মহিমায় জেগে ওঠে মাগুরার শালিখা উপজেলার সিংড়া গ্রাম।

​চেয়ারে নতুন পোশাকে পাশাপাশি বসে আছেন বাবা-মা। তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে সন্তান, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা।

জল ঢেলে ধুয়ে দেওয়া হচ্ছে বাবা-মায়ের পা, পায়ে অর্পণ করা হচ্ছে ফুল, আর শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে উচ্চারিত হচ্ছে মাতৃ-পিতৃ বন্দনার মন্ত্র। এ যেন দেবত্বের এক নতুন উপলব্ধি, যা কেবল মাটির প্রতিমায় সীমাবদ্ধ না রেখে খুঁজে নেওয়া হয়েছে জন্মদাতা মা-বাবার মধ্যে।

​শালিখা উপজেলার সিংড়া গ্রামে প্রতিবছর দুর্গাপূজার নবমীতে এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আসছেন এলাকার কৃতী সন্তান ও পুলিশ সুপার গৌতম বিশ্বাস।

তাঁর অনুপ্রেরণায় শুরু হওয়া এই রীতি এখন শুধু তাঁর নিজের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই; গ্রামের বহু পরিবারই এখন নবমীর দিনে মা-বাবাকে এভাবে সম্মান জানিয়ে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

​সন্তানের জন্য মা-বাবার জীবন এক নিরবচ্ছিন্ন ত্যাগের গল্প। কিন্তু বার্ধক্যে অনেক সময় সেই মা-বাবাই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। সিংড়া গ্রামের এই অনুষ্ঠান যেন সেই বিস্মৃত সম্পর্কের দরজায় কড়া নাড়ে। মনে করিয়ে দেয়, মা-বাবাই সন্তানের অস্তিত্বের শিকড় ও মূল্যবোধের প্রথম পাঠশালা।

​পুলিশ সুপার গৌতম বিশ্বাসের মতে, প্রতিটি পিতা-মাতার মধ্যেই রয়েছে ভগবানের প্রতিচ্ছবি। দুর্গাপূজায় শাস্ত্রীয় রীতিতে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি নিজের মা-বাবাকে যথাযথ সম্মান ও ভক্তি করতে পারলে সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার ও অমানবিক চিন্তা দূর হবে। যে ঘরে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা হয়, সেখানেই মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।

​এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এক মহৎ শিক্ষা লাভ করছে—বড় হওয়া মানে শুধু অর্থবিত্ত বা উচ্চপদ নয়, বরং নিজের শিকড়কে মনে রাখা ও কৃতজ্ঞ হতে শেখা।

​সিংড়ার এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেবতাকে খুঁজতে সব সময় মন্দিরে যেতে হয় না; ঘরের বৃদ্ধ মা-বাবার চোখের দিকে তাকালেই ঈশ্বরের সবচেয়ে মমতাময় রূপ দেখা যায়। এ গ্রাম থেকে ছড়িয়ে পড়ুক সেই বার্তা—মা-বাবার সেবাই হোক জীবনের সাধনা এবং মানবতাই হোক সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম।

Please Share This Post in Your Social Media

দেবতার আসনে বাবা-মা: মাগুরার সিংড়া গ্রামে গৌতমের মানবিক উদ্যোগ

আপডেট: ০৮:২৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

​দীনবন্ধু মজুমদার, মাগুরা: ​মাটির প্রতিমায় দেবীর আরাধনার পাশাপাশি জীবন্ত দেবতারূপে বাবা-মায়ের বন্দনা—এমনই ভক্তি ও মানবিকতার অপূর্ব মেলবন্ধনে দুর্গোৎসবের নবমী তিথিতে অন্য এক মহিমায় জেগে ওঠে মাগুরার শালিখা উপজেলার সিংড়া গ্রাম।

​চেয়ারে নতুন পোশাকে পাশাপাশি বসে আছেন বাবা-মা। তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে সন্তান, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা।

জল ঢেলে ধুয়ে দেওয়া হচ্ছে বাবা-মায়ের পা, পায়ে অর্পণ করা হচ্ছে ফুল, আর শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে উচ্চারিত হচ্ছে মাতৃ-পিতৃ বন্দনার মন্ত্র। এ যেন দেবত্বের এক নতুন উপলব্ধি, যা কেবল মাটির প্রতিমায় সীমাবদ্ধ না রেখে খুঁজে নেওয়া হয়েছে জন্মদাতা মা-বাবার মধ্যে।

​শালিখা উপজেলার সিংড়া গ্রামে প্রতিবছর দুর্গাপূজার নবমীতে এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আসছেন এলাকার কৃতী সন্তান ও পুলিশ সুপার গৌতম বিশ্বাস।

তাঁর অনুপ্রেরণায় শুরু হওয়া এই রীতি এখন শুধু তাঁর নিজের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই; গ্রামের বহু পরিবারই এখন নবমীর দিনে মা-বাবাকে এভাবে সম্মান জানিয়ে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

​সন্তানের জন্য মা-বাবার জীবন এক নিরবচ্ছিন্ন ত্যাগের গল্প। কিন্তু বার্ধক্যে অনেক সময় সেই মা-বাবাই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। সিংড়া গ্রামের এই অনুষ্ঠান যেন সেই বিস্মৃত সম্পর্কের দরজায় কড়া নাড়ে। মনে করিয়ে দেয়, মা-বাবাই সন্তানের অস্তিত্বের শিকড় ও মূল্যবোধের প্রথম পাঠশালা।

​পুলিশ সুপার গৌতম বিশ্বাসের মতে, প্রতিটি পিতা-মাতার মধ্যেই রয়েছে ভগবানের প্রতিচ্ছবি। দুর্গাপূজায় শাস্ত্রীয় রীতিতে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি নিজের মা-বাবাকে যথাযথ সম্মান ও ভক্তি করতে পারলে সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার ও অমানবিক চিন্তা দূর হবে। যে ঘরে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা হয়, সেখানেই মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।

​এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এক মহৎ শিক্ষা লাভ করছে—বড় হওয়া মানে শুধু অর্থবিত্ত বা উচ্চপদ নয়, বরং নিজের শিকড়কে মনে রাখা ও কৃতজ্ঞ হতে শেখা।

​সিংড়ার এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেবতাকে খুঁজতে সব সময় মন্দিরে যেতে হয় না; ঘরের বৃদ্ধ মা-বাবার চোখের দিকে তাকালেই ঈশ্বরের সবচেয়ে মমতাময় রূপ দেখা যায়। এ গ্রাম থেকে ছড়িয়ে পড়ুক সেই বার্তা—মা-বাবার সেবাই হোক জীবনের সাধনা এবং মানবতাই হোক সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম।