নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা: কর্মবিরতি ও মানববন্ধন
- আপডেট: ০৭:০১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১১

মোঃ বাদশা প্রামানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
সোমবার (১২) সকাল থেকে তাঁরা কর্মবিরতি শুরু করেন এবং বেলা ১১টায় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এক মানববন্ধনে অংশ নেন।এর আগে রোববার দুপুরে হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন সংগ্রহকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। হামলায় অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সচালক নাঈম ইসলামকে (২৫) ইতোমধ্যে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক নাঈম আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন আনতে রেডিওলজি বিভাগে যান। প্রতিবেদন দিতে সামান্য দেরি হওয়ায় তিনি চড়াও হন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলে ওই চালক ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
পরে ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডলের চিৎকারে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাঈমকে আটক করেন এবং থানায় সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় চিকিৎসকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
চিকিৎসকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবার সকালে হাসপাতালের চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা যৌথভাবে চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য।’ এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অভিযুক্ত চালকের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। পাশাপাশি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের জোর দাবি জানানো হয়।
হঠাৎ এই কর্মবিরতির কারণে সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, ‘হাসপাতালে আগত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে শুধুমাত্র ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। আমাদের অন্যান্য চিকিৎসক ও সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।’
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





















