ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ইউপির ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, হদিস নেই আরও ১ লাখ ১০ হাজারের!
- আপডেট: ০৬:৪১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১২

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত ঘিরে বাড়ছে আলোচনা।।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৩ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমেন ঢালীর বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে নেওয়া, হোল্ডিং ট্যাক্সের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার হিসাব না পাওয়া, প্রকল্প ছাড়াই দুই লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা এবং নিয়মিত সভা ছাড়াই রেজুলেশন তৈরির অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্যরা।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনে রমেন ঢালীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে স্থাবর সম্পত্তির ১ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের কথা বলে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমেন ঢালীর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে উল্লেখিত হিসাব নম্বরটি হলো ৬১১১০০২০৪১২৫৪।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিপিকা ঘরামীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান তাঁকে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই টাকা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব হিসাবে জমা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হোল্ডিং ট্যাক্সের ১ লাখ ১০ হাজার টাকার হিসাব কোথায়?
ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১টি আদায় বইয়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের হিসাব পাওয়া গেলেও আরও প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
জনগণের কাছ থেকে আদায় করা করের অর্থ সরকারি হিসাবের সঙ্গে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সমন্বয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অর্থের প্রকৃত অবস্থান, আদায়সংক্রান্ত নথিপত্র এবং জমার হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
প্রকল্প ছাড়াই দুই লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা?
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১১ লাখ টাকার প্রকল্প দেওয়া হলেও বাকি দুই লাখ টাকার জন্য কোনো প্রকল্প দেওয়া হয়নি। ওই অর্থ উত্তোলনের জন্য স্বাক্ষর দিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তবে বরাদ্দ, প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলনসংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভা ছাড়াই রেজুলেশন তৈরির অভিযোগ ইউপি সদস্যদের আরও অভিযোগ, পরিষদের নিয়মিত সভা না করেই বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের রেজুলেশন তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তাঁরা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি।
অভিযোগ অস্বীকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমেন ঢালী। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিপিকা ঘরামীর কাছে রয়েছে।
জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জনগণের সেবা, উন্নয়ন ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিষ্ঠিত। সেখানে অর্থের হিসাব নিয়ে এমন অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হলে বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে সব বক্তব্য, ব্যাংক লেনদেনের নথি, প্রকল্পের কাগজপত্র এবং তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট প্রশ্নের জবাব দেওয়া উচিত।
এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃতপক্ষে কী সুপারিশ করা হয়েছে? সেই সুপারিশের ভিত্তিতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে? আর অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের হিসাব কি পরিষ্কার করা হয়েছে?
এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।





















