০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

গ্রাহ‌কদের ৮ কো‌টি টাকা আত্মসাৎ, অগ্রণী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা আটক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৯৮ গ্রাহকের ৮ কো‌টি ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের অভি‌যো‌গে অগ্রণী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তা‌কে আটক করা হ‌য়ে‌ছে।

গ্রাহ‌কের অভিযোগ পে‌য়ে প্রথ‌মে ব‌্যাংক‌টির অফিসার (ক্যাশ) মো. শরীফুজ্জামানকে পু‌লি‌শের সহায়তায় আটক করা হয়। প‌রে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশ‌নের (দুদক) টিম অনুসন্ধান ক‌রে শরীফুজ্জামানের স‌ঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ব‌্যাংক‌টির আরও পাঁচ কর্মকর্তা‌কে পু‌লি‌শের সাহা‌য্যে আাটক ক‌রে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব‌্যাং‌কের শাখায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহক‌দের অভিযোগ যাচাই ক‌রে দুদক টিম অর্থ আত্মসাতে জ‌ড়িত‌দের আটক ক‌রে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন দুদ‌কের উপ-প‌রিচালক আকতারুল ইসলাম।

বৃহস্প‌তিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবা‌গিচায় দুদ‌কের প্রধান কার্যাল‌য়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তি‌নি। এ সময় দুদ‌কের সহকারী প‌রিচালক (জনসং‌যোগ) তান‌জির আহ‌মেদ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

আকতারুল ইসলাম জানান, অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার অফিসার (ক্যাশ) মো. শরীফুজ্জামান ছাড়াও আরও যে পাঁচজন‌কে আটক করা হয়েছে, তারা হ‌লেন—ব্যাংকটির অফিসার (ক্যাশ) মো. জিন্নাহ হোসেন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক ম্যানেজার রেজাউল হক, প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক ম্যানেজার মো. শরীফ উদ্দীন, সিকিউরিটি গার্ড রঞ্জু আহমেদ ও আব্দুল হাই।

দুদক জানায়, অগ্রণী ব্যাংকের ওই ছয় কর্মকর্তা দীর্ঘ‌দিন ধ‌রে গ্রাহ‌কদের টাকা নি‌য়ে ক্যা‌শে জমা না দি‌য়ে আত্মসাৎ ক‌রছি‌লেন। পরস্পর যোগসাজশে অতিরিক্ত সুদে ভুয়া এফডিআর, চেক জালিয়াতি, ভুয়া ডিপোজিট স্লিপ, অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিবর্তনসহ এমন কো‌নো অপকর্ম নেই যা তারা ক‌রেন‌নি।

এসব অভিযোগে গত ৪ অক্টোবর ব‌্যাংক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামানকে পু‌লি‌শি সহায়তায় আটক করা হয়। তার সূত্র ধ‌রে দুদক টিম অনুসন্ধা‌নে না‌মে। বুধবার অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় শতা‌ধিক গ্রাহক বি‌ক্ষোভ ক‌রেন। একপর্যা‌য়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহ‌কদের বক্তব্য গ্রহণ ক‌রে দুদক টিম। তথ্য যাচাই শে‌ষে ৯৮ গ্রাহকের ৮ কো‌টি ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের সত‌্যতা পায় দুদক। আত্মসাৎ করা টাকার প‌রিমাণ আরও বাড়‌তে পা‌রে ব‌লে ধারণা কর‌ছে দুদক টিম।

দুদক অনুসন্ধান চা‌লি‌য়ে যা‌চ্ছে। অনুসন্ধান শেষ হ‌লে দ্রুততম সময়ে ছয় ব‌্যক্তির বিরু‌দ্ধে মামলা দা‌খিল কর‌বে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে সংস্থা‌টি।

দুদকের প্রধান কার্যাল‌য়ের সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মাহবীর মুহাম্মদ সামী এই অনুসন্ধা‌নদলে নেতৃত্ব দি‌চ্ছেন। দলে সদস‌্য হি‌সে‌বে আছেন উপ-সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মো. রবিউল ইসলাম।

Please Share This Post in Your Social Media

গ্রাহ‌কদের ৮ কো‌টি টাকা আত্মসাৎ, অগ্রণী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা আটক

আপডেট: ০৮:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৯৮ গ্রাহকের ৮ কো‌টি ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের অভি‌যো‌গে অগ্রণী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তা‌কে আটক করা হ‌য়ে‌ছে।

গ্রাহ‌কের অভিযোগ পে‌য়ে প্রথ‌মে ব‌্যাংক‌টির অফিসার (ক্যাশ) মো. শরীফুজ্জামানকে পু‌লি‌শের সহায়তায় আটক করা হয়। প‌রে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশ‌নের (দুদক) টিম অনুসন্ধান ক‌রে শরীফুজ্জামানের স‌ঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ব‌্যাংক‌টির আরও পাঁচ কর্মকর্তা‌কে পু‌লি‌শের সাহা‌য্যে আাটক ক‌রে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব‌্যাং‌কের শাখায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহক‌দের অভিযোগ যাচাই ক‌রে দুদক টিম অর্থ আত্মসাতে জ‌ড়িত‌দের আটক ক‌রে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন দুদ‌কের উপ-প‌রিচালক আকতারুল ইসলাম।

বৃহস্প‌তিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবা‌গিচায় দুদ‌কের প্রধান কার্যাল‌য়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তি‌নি। এ সময় দুদ‌কের সহকারী প‌রিচালক (জনসং‌যোগ) তান‌জির আহ‌মেদ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

আকতারুল ইসলাম জানান, অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার অফিসার (ক্যাশ) মো. শরীফুজ্জামান ছাড়াও আরও যে পাঁচজন‌কে আটক করা হয়েছে, তারা হ‌লেন—ব্যাংকটির অফিসার (ক্যাশ) মো. জিন্নাহ হোসেন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক ম্যানেজার রেজাউল হক, প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক ম্যানেজার মো. শরীফ উদ্দীন, সিকিউরিটি গার্ড রঞ্জু আহমেদ ও আব্দুল হাই।

দুদক জানায়, অগ্রণী ব্যাংকের ওই ছয় কর্মকর্তা দীর্ঘ‌দিন ধ‌রে গ্রাহ‌কদের টাকা নি‌য়ে ক্যা‌শে জমা না দি‌য়ে আত্মসাৎ ক‌রছি‌লেন। পরস্পর যোগসাজশে অতিরিক্ত সুদে ভুয়া এফডিআর, চেক জালিয়াতি, ভুয়া ডিপোজিট স্লিপ, অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিবর্তনসহ এমন কো‌নো অপকর্ম নেই যা তারা ক‌রেন‌নি।

এসব অভিযোগে গত ৪ অক্টোবর ব‌্যাংক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামানকে পু‌লি‌শি সহায়তায় আটক করা হয়। তার সূত্র ধ‌রে দুদক টিম অনুসন্ধা‌নে না‌মে। বুধবার অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় শতা‌ধিক গ্রাহক বি‌ক্ষোভ ক‌রেন। একপর্যা‌য়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহ‌কদের বক্তব্য গ্রহণ ক‌রে দুদক টিম। তথ্য যাচাই শে‌ষে ৯৮ গ্রাহকের ৮ কো‌টি ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের সত‌্যতা পায় দুদক। আত্মসাৎ করা টাকার প‌রিমাণ আরও বাড়‌তে পা‌রে ব‌লে ধারণা কর‌ছে দুদক টিম।

দুদক অনুসন্ধান চা‌লি‌য়ে যা‌চ্ছে। অনুসন্ধান শেষ হ‌লে দ্রুততম সময়ে ছয় ব‌্যক্তির বিরু‌দ্ধে মামলা দা‌খিল কর‌বে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে সংস্থা‌টি।

দুদকের প্রধান কার্যাল‌য়ের সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মাহবীর মুহাম্মদ সামী এই অনুসন্ধা‌নদলে নেতৃত্ব দি‌চ্ছেন। দলে সদস‌্য হি‌সে‌বে আছেন উপ-সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মো. রবিউল ইসলাম।