১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

শার্শায় মানব পাচার প্রতিরোধে প্রশাসন-রাইটসের সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবারের কাছে ফিরেছেন ৯২ ভুক্তভোগী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্তবর্তী যশোরের শার্শা উপজেলায় নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে শার্শা উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোরের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় গত তিন মাসে নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, উদ্ধার, কেস ম্যানেজমেন্ট, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রাইটস যশোরের উপপরিচালক এসএম আজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনডিসি আঞ্চলিক অফিসের দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয় প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী তাসনিন বিনতা করিম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গুলশান-ই-জাহান (অতিরিক্ত দায়িত্ব, চৌগাছা উপজেলা), বিজিবি ও পুলিশের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির (BNWLA) যশোর অঞ্চলের প্রোগ্রাম অফিসার রেখা বিশ্বাস, উপজেলা প্রেস ক্লাব শার্শার সভাপতি আহম্মেদ আলী শাহিনসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভায় রাইটস যশোরের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাচারের ঝুঁকিতে থাকা দুই নারী ও শিশুকে জরুরি সুরক্ষা সেবা কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯২ জন ভুক্তভোগীকে নিরাপদে তাদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ জন ভুক্তভোগীকে নিয়মিত ফলোআপ ও সামাজিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফলোআপে থাকা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২১ শতাংশ ছয় থেকে নয় মাসের সময়ে জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তাবোধে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন।

পাচার-সংক্রান্ত ১৩টি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ১৭ জন ভুক্তভোগীকে সরাসরি আইনি পরামর্শ ও তথ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও প্রশাসনিক অভিযোগ করা হয়েছে ১৩টি।

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনঃএকত্রীকরণের অংশ হিসেবে ৯২ জনকে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ, ৫৫ জনকে প্রত্যক্ষ আইনি সহায়তা এবং ২৬ জনকে মানসিক ও সামাজিক কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার জন্য ১১ জনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দুটি অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শার্শা মানব পাচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মানব পাচার প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ফেরত আসা নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যশোর রাইটসের মাঠপর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যক্রম প্রশংসনীয়। সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার কমিয়ে আনা সম্ভব।

রাইটস যশোরের কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সভায় রাইটস যশোরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

শার্শায় মানব পাচার প্রতিরোধে প্রশাসন-রাইটসের সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবারের কাছে ফিরেছেন ৯২ ভুক্তভোগী

আপডেট: ১২:১৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্তবর্তী যশোরের শার্শা উপজেলায় নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে শার্শা উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোরের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় গত তিন মাসে নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, উদ্ধার, কেস ম্যানেজমেন্ট, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রাইটস যশোরের উপপরিচালক এসএম আজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনডিসি আঞ্চলিক অফিসের দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয় প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী তাসনিন বিনতা করিম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গুলশান-ই-জাহান (অতিরিক্ত দায়িত্ব, চৌগাছা উপজেলা), বিজিবি ও পুলিশের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির (BNWLA) যশোর অঞ্চলের প্রোগ্রাম অফিসার রেখা বিশ্বাস, উপজেলা প্রেস ক্লাব শার্শার সভাপতি আহম্মেদ আলী শাহিনসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভায় রাইটস যশোরের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাচারের ঝুঁকিতে থাকা দুই নারী ও শিশুকে জরুরি সুরক্ষা সেবা কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯২ জন ভুক্তভোগীকে নিরাপদে তাদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ জন ভুক্তভোগীকে নিয়মিত ফলোআপ ও সামাজিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফলোআপে থাকা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২১ শতাংশ ছয় থেকে নয় মাসের সময়ে জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তাবোধে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন।

পাচার-সংক্রান্ত ১৩টি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ১৭ জন ভুক্তভোগীকে সরাসরি আইনি পরামর্শ ও তথ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও প্রশাসনিক অভিযোগ করা হয়েছে ১৩টি।

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনঃএকত্রীকরণের অংশ হিসেবে ৯২ জনকে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ, ৫৫ জনকে প্রত্যক্ষ আইনি সহায়তা এবং ২৬ জনকে মানসিক ও সামাজিক কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার জন্য ১১ জনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দুটি অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শার্শা মানব পাচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মানব পাচার প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ফেরত আসা নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যশোর রাইটসের মাঠপর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যক্রম প্রশংসনীয়। সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার কমিয়ে আনা সম্ভব।

রাইটস যশোরের কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সভায় রাইটস যশোরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।