ডিমলায় তিস্তা ব্যারেজের উজানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে অবৈধ পাথর উত্তোলনের মহোৎসব
- আপডেট: ১১:২১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪

মোঃ রুবেল ইসলাম, ডিমলা প্রতিনিধি, নীলফামারী:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগা খড়িবাড়ি,গয়াবাড়ি ও টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন উজাঁন এলাকায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অবাধে চলছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব।
একটি অসাধু চক্র নিয়মনীতি ও আইনকে তোয়াক্কা না করে নদী থেকে বোমা মেশিন ও শত শত শেপ নৌকা দিয়ে লেবারের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাথর তুলে বিক্রি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ও আশপাশের তীরবর্তী জনপদ।
যেভাবে চলছে অবৈধ উত্তোলন এতে করে নদীর তীরবর্তী এলাকার জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট—বিশেষ করে ব্যারেজের উজানে নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে পাথর তোলার হিড়িক পড়েছে। শক্তিশালী মেশিন এবং সনাতন পদ্ধতিতে নৌকায় শেপ মেশিনের মাধ্যমে গভীর করে তোলা হচ্ছে এসব পাথর।
পরে তা ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। দিনের বেলা কিছু এলাকায় কার্যক্রম সীমিত রাখলেও রাতের অন্ধকারে পুরোদমে চলে এই অবৈধ বাণিজ্য।
মারাত্মক পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি
পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে, তিস্তা নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন এবং তীর ভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ এই অপরিকল্পিত ও অবৈধ পাথর উত্তোলন।
ঝুঁকিতে তিস্তা ব্যারেজ: সেচ প্রকল্পের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তিস্তা ব্যারেজের অদূরেই এভাবে নদী খোঁড়ার ফলে ব্যারেজের সুরক্ষাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ভাঙনে আতঙ্ক: নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন নদীর তীরবর্তী মানুষজন।
প্রশাসনের ভূমিকায় ধীরগতি, স্থানীয়দের ক্ষোভ,
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পাথর উত্তোলনের এই ঘটনা ওপেন সিক্রেট হলেও মাঝেমধ্যে দায়সাড়া অভিযান ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী চক্রের ছত্র ছায়ায় এই অবৈধ কারবার চলায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। প্রশাসনের কঠোর নজর দারি ও নিয়মিত অভিযান না থাকায় দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে এই চক্রটি।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা জানান, অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর আগেও বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আবারও যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।






















