অপহরণ মামলার সূত্র ধরে মাথাবিহীন নারীর পরিচয় শনাক্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি আটক
- আপডেট: ০৮:২৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৬২

নিজস্ব প্রতিবেদক: অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বটিয়াঘাটায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা এক নারীর মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা। একই সঙ্গে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার সাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা শামিম ফকির তার মা সালেহা বেগম অপহৃত হয়েছেন—এমন অভিযোগে একই গ্রামের মো. লালন গাজীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই খুলনার এসআই রেজোয়ান মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।
তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, ভিকটিম সালেহা বেগম দীর্ঘদিন পিরোজপুরের ইন্দুরকানী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সালেহা বেগম ও আসামি লালন গাজী একসঙ্গে ইন্দুরকানীর চাড়াখালী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সর্বশেষ ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় খুলনার বটিয়াঘাটার গজালিয়া গ্রামে যাওয়ার কথা বলে তারা একসঙ্গে বাসা থেকে বের হন।
এদিকে ২০ আগস্ট বিকেলে বটিয়াঘাটা থানার সুখদাড়া গ্রামে ঝপঝপিয়া নদী থেকে মাথাবিহীন এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মৃতদেহটি ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় এবং এ ঘটনায় বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
পরবর্তীতে পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিম সংগ্রহ করা মৃতদেহের স্থিরচিত্র অপহরণ মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখালে তারা পরিধেয় বস্ত্র ও শারীরিক গঠনের মাধ্যমে মৃতদেহটি সালেহা বেগমের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন। এরপর হত্যা মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অপহরণ মামলার আসামি লালন গাজী পলাতক ছিলেন। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও খুলনা জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা’র নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একাধিক দল সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
দীর্ঘ ৪০ দিনের অনুসন্ধান ও অভিযান শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ সদর থানার হালুয়ারঘাট এলাকা থেকে আসামি লালন গাজীকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেন, তিনি ভিকটিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস করতেন। এ সময় তিনি ভিকটিমের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা ফেরত ও বিয়ের চাপ দেওয়ায় তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে বটিয়াঘাটার একটি খেয়াঘাট এলাকায় সহযোগীদের সহায়তায় সালেহা বেগমকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেন।
আসামির দেওয়া তথ্যমতে ২৭ ডিসেম্বর বটিয়াঘাটার গজালিয়া গ্রামে তার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
সাত দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















