০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

তাপদাহ ও বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল ঝিকরগাছাবাসী, বাড়ছে অসুস্থতা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:০০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • /

সাব্বির হোসেন: তীব্র গরম, ভ্যাপসা আবহাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটে যশোরের ঝিকরগাছার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

কয়েকদিন ধরে চলমান তাপদাহের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে গরমজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরের ভেতরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই সূর্যের তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছে। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রম ও দৈনন্দিন কাজকর্মেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে তীব্র গরমের কারণে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগীর চাপ বেড়েছে। পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, জ্বর, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছেন অনেকে।

ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) সাইফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান আবহাওয়ায় গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। শিশু, বয়স্ক এবং যারা দীর্ঘসময় রোদে কাজ করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তীব্র গরমে শরীরে পানির ঘাটতি দ্রুত তৈরি হয়। তাই সবাইকে বেশি বেশি পানি ও খাবার স্যালাইন পান করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও দিনমজুররা জীবিকার তাগিদে প্রখর রোদের মধ্যেই কাজ করছেন। ফলে তাদের মধ্যে গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, চলমান তাপদাহ ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকটের দ্বিমুখী চাপে ঝিকরগাছার জনজীবন যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন স্বস্তির বৃষ্টি ও পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন উপজেলার লাখো মানুষ।

Please Share This Post in Your Social Media

তাপদাহ ও বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল ঝিকরগাছাবাসী, বাড়ছে অসুস্থতা

আপডেট: ০৮:০০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সাব্বির হোসেন: তীব্র গরম, ভ্যাপসা আবহাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটে যশোরের ঝিকরগাছার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

কয়েকদিন ধরে চলমান তাপদাহের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে গরমজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরের ভেতরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই সূর্যের তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছে। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রম ও দৈনন্দিন কাজকর্মেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে তীব্র গরমের কারণে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগীর চাপ বেড়েছে। পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, জ্বর, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছেন অনেকে।

ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) সাইফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান আবহাওয়ায় গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। শিশু, বয়স্ক এবং যারা দীর্ঘসময় রোদে কাজ করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তীব্র গরমে শরীরে পানির ঘাটতি দ্রুত তৈরি হয়। তাই সবাইকে বেশি বেশি পানি ও খাবার স্যালাইন পান করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও দিনমজুররা জীবিকার তাগিদে প্রখর রোদের মধ্যেই কাজ করছেন। ফলে তাদের মধ্যে গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, চলমান তাপদাহ ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকটের দ্বিমুখী চাপে ঝিকরগাছার জনজীবন যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন স্বস্তির বৃষ্টি ও পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন উপজেলার লাখো মানুষ।