১১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ঝিকরগাছায় মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্মম প্রহারের শিকার এক শিক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / ১৮

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কৃষ্ণনগর মাক্কীনুর হাফেজী মাদ্রাসায় এক ছাত্রকে নির্মম ভাবে প্রহার করেছেন ঐ মাদ্রাসারই একজন শিক্ষক। গত মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেটা প্রকাশ্যে আসতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

কৃষ্ণনগর গ্রামের আলী আহম্মেদ এর পুত্র আরমান আহমেদ (১৪) মাক্কীনুর হাফেজী মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। গত ৩ বছর সে উক্ত মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

আরমান জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাউকে না জানিয়ে সে বাইরে বেরিয়েছিল। এই অপরাধে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ ইসলামুল হক তাকে বারান্দায় ধরে বেত দিয়ে প্রহার করা শুরু করে। মারতে মারতে বেত ভেঙে গেলে হুজুর আরেকটি বেত নিয়ে আসে। এসময় রুমের মধ্যে থাকা আরেক ছাত্র আশিককে বলে তাকে চেপে ধরে রাখতে। আশিক আরমানকে পিঠমোড়া করে ধরে রাখে এবং হুজুর তাকে ঐ অবস্থায় মারতে থাকে। এসময় হুজুর বলে, চাকরী না থাকলে না থাকবে, প্রয়োজনে জেলে যাবো তবুও তোকে মেরেই ফেলবো। মারার পর কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করা হয় এমনকি প্রচন্ড মার খেয়ে বাচ্চাটির জ্বর আসলেও কোনো ডাক্তার দেখানো হয়নি। তিনদিন পরে ঘটনা জানতে পেরে বাচ্চাটির বাবা এবং মামা তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আনে। বর্তমানে সে বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছে।

এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হুজুরের কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন দিলে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে কোনো নীতিমালা না থাকায় ধর্মশিক্ষার নামে যত্রতত্র মাদ্রাসা খুলে যোগ্যতা বিহীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সেখানে কোমলমতি শিশুদের শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

ঝিকরগাছায় মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্মম প্রহারের শিকার এক শিক্ষার্থী

আপডেট: ০৪:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কৃষ্ণনগর মাক্কীনুর হাফেজী মাদ্রাসায় এক ছাত্রকে নির্মম ভাবে প্রহার করেছেন ঐ মাদ্রাসারই একজন শিক্ষক। গত মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেটা প্রকাশ্যে আসতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

কৃষ্ণনগর গ্রামের আলী আহম্মেদ এর পুত্র আরমান আহমেদ (১৪) মাক্কীনুর হাফেজী মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। গত ৩ বছর সে উক্ত মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

আরমান জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাউকে না জানিয়ে সে বাইরে বেরিয়েছিল। এই অপরাধে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ ইসলামুল হক তাকে বারান্দায় ধরে বেত দিয়ে প্রহার করা শুরু করে। মারতে মারতে বেত ভেঙে গেলে হুজুর আরেকটি বেত নিয়ে আসে। এসময় রুমের মধ্যে থাকা আরেক ছাত্র আশিককে বলে তাকে চেপে ধরে রাখতে। আশিক আরমানকে পিঠমোড়া করে ধরে রাখে এবং হুজুর তাকে ঐ অবস্থায় মারতে থাকে। এসময় হুজুর বলে, চাকরী না থাকলে না থাকবে, প্রয়োজনে জেলে যাবো তবুও তোকে মেরেই ফেলবো। মারার পর কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করা হয় এমনকি প্রচন্ড মার খেয়ে বাচ্চাটির জ্বর আসলেও কোনো ডাক্তার দেখানো হয়নি। তিনদিন পরে ঘটনা জানতে পেরে বাচ্চাটির বাবা এবং মামা তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আনে। বর্তমানে সে বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছে।

এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হুজুরের কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন দিলে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে কোনো নীতিমালা না থাকায় ধর্মশিক্ষার নামে যত্রতত্র মাদ্রাসা খুলে যোগ্যতা বিহীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সেখানে কোমলমতি শিশুদের শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।