যশোরে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরে, নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত”
- আপডেট: ০৭:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৬৫

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ যশোরে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ : নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৩ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় যশোরের হোটেল জয়তি সোসাইটির মিলনায়তনে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক ও বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক, যশোর জেলা কমিটির আয়োজনে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই গোল টেবিল বৈঠকে যশোরের বিভিন্ন উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন, সুজনের যশোর জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সালেহা বেগম। বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সভাপতি, ফিরোজা বুলবুলির সঞ্চালনায়, অনুষ্ঠিত এই গোল টেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন, এম, এম কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, যশোর কালেক্টরল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাক্ষ মো: মোদাচ্ছির হোসেন, যশোর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা জাকির হোসেন, দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু, এমএসটিপি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাক্ষ খায়রুল আনাম, হোটেল জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, সুজনের বাঘারপাড়া উপজেলা সভাপতি অধ্যাক্ষ মুস্তাক মোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল হক মিঠু, হাফিজুর রহমান হাফিজসহ সুজনের যশোর জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
এছাড়া বৈঠকে আলোচনার বিষয় সমূহ সমন্বয় করেন, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো: খোরশেদ আলম এবং জেলা সমন্বয়কারী মো. গিয়াস উদ্দিন। বৈঠকে সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ৮০ জন প্রতিনিধি তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন। যার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সুজনের যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান নান্নু।
বৈঠকে বক্তারা গণতন্ত্রের বিকাশে সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন, কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়; বরং এতে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। তাঁরা আরও বলেন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করতে নাগরিকদের সচেতন ও সংগঠিত ভূমিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে, তরুণ ও নতুন ভোটারদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে এবং ঝুকিমুক্ত পরিবেশ তৈরী করা না গেলে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।
বৈঠক শেষে গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে উঠে আসে—দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতাই সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তি, গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। মহান (মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪ এর জুলাই) চেতনা ধারণ করেই সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে মানবিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এবং কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে আলাদা করে দেখার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে না। ভোটের আগে ও পরে সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। এই শঙ্কা দূর করতে নাগরিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়ম রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ ছাড়াও তরুণ, নারী ও হিজড়া ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের অবাধ ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা ও সংলাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্য মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড, সালেহা বেগম বলেন, গণতন্ত্র শুধু ভোট নয়; দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং সরকারি কর্মচারীদের জনগণের কর্মচারী হিসেবে কাজ করার চেতনার ওপরই সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।



















