শুল্ক আদায়ে গতি ও স্বচ্ছতা আনতে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে বেনাপোলে ‘স্পট ট্যাক্স’ চালুর দাবি
- আপডেট: ০৬:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৮৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমসে শুল্ক আদায়ে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা আনতে এবং যাত্রীদের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে ‘স্পট ট্যাক্স’ পদ্ধতি চালুর দাবি উঠেছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট যাত্রী সেবা সংগঠন এবং নিয়মিত যাতায়াতকারী বাংলাদেশী যাত্রীরা বলছেন, এই পদ্ধতি চালু হলে যাত্রী ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজ হবে, দুর্নীতি কমবে এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।
ভারতের সাথে ভিসা জটিলতার কারণে বর্তমানে প্রতিদিন বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। পাশাপাশি সেখান দিয়ে পণ্যও আনা-নেওয়া হয়। তবে এই শুল্ক আদায় ও যাচাই প্রক্রিয়া এখনও পুরোনো পদ্ধতিতে হওয়ায় সময় লাগে বেশি, হয়রানি বাড়ে এবং অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ ও ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীরা জানিয়েছেন, ‘আমাদের আনীত মালামাল যদি নির্ধারিত শুল্কসহ স্পট ট্যাক্সে ছাড় পাই, তাহলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। এতে দেশে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। বিশেষ করে ভারত থেকে যে কিছু পণ্য আসে এবং বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না, সেগুলোতে স্পট ট্যাক্সের মাধ্যমে কর আদায় করলে সরকার উপকৃত হবে।’
তারা আরও জানান, কাস্টমসে ডিটেনশন মেমো (ডিএম) করে যেসব পণ্য আটকানো হয়, অতিরিক্ত শুল্ক ও জটিলতায় সেগুলো ছাড়িয়ে না নেওয়ায় অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এসব পণ্য ছাড় করাতে গেলে যাত্রীদের প্রায় ৩০০ শতাংশ জরিমানা দিতে হয়, ফাইল খুলতে ৩৫শ টাকা খরচ হয়। ফলে অনেক পণ্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্ধেক দামে নিলামে বিক্রি হয়, যার কারণে সরকার বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতি ভোগ করছে।
স্পট ট্যাক্স পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পণ্যের ওপর একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট হারে শুল্ক বসিয়ে, কাস্টমস স্ক্যানার বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শুল্ক নির্ধারণ ও অনলাইনে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এতে দীর্ঘ সময়ের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই বা ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর চেকপোস্ট ব্যবসায়ী সমিতির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান বিশ্বাস বলেন, ‘বর্তমানে শুল্ক নির্ধারণে অনেক ধাপ পেরোতে হয়। যাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই ভোগান্তি। কেউ যদি অতিরিক্ত পণ্য বহন করেন, সেটি যাচাইয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। স্পট ট্যাক্স চালু হলে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক দিয়ে অল্প সময়েই ছাড় পাওয়া সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্টে আধুনিক ব্যবস্থা ও স্পট ট্যাক্স চালু থাকায় তারা গতি এবং স্বচ্ছতায় অনেক এগিয়ে গেছে। অথচ আমরা এখনও কাগজ-কলমের প্রাচীন পদ্ধতিতে আটকে আছি।’
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, কাস্টমস চেকিংয়ে তাদের সঙ্গে থাকা খাদ্যপণ্য, ব্যবহৃত বা উপহার সামগ্রীকে অতিরিক্ত মালামাল হিসেবে গণ্য করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয় অথবা পণ্য জব্দ করা হয়।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে বর্তমানে মাত্র দুটি স্ক্যানার দিয়ে যাত্রী ও পণ্য স্ক্যানিং করা হয়। তাছাড়া কাগজপত্র যাচাই, ম্যানুয়াল রেজিস্ট্রেশন ও শুল্ক নির্ধারণে সময় বেশ লাগে।
শুল্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পট ট্যাক্স চালু হলে কাস্টমস সেবা দ্রুততর হবে, যাত্রীদের আস্থা বাড়বে এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে বড় অবদান রাখবে।
নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা জানিয়েছেন, শুল্ক আদায়ে গতি ও স্বচ্ছতা আনতে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমসে ‘স্পট ট্যাক্স’ চালুর বিকল্প নেই।




















