১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমানের ঘোষণা বাস্তবায়নে বেনাপোলে ৫০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বেনাপোল পৌর এলাকায় পরিবেশ রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে নিজ অর্থায়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের যুগোপযোগী ঘোষণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনি গত তিন মাস ধরে এই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় বেনাপোল পৌর গেট এলাকায় আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু তাহের ভারত এই ঘোষণা করেন, আগামী ৫ বছরে বেনাপোল পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে মোট ৫০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে গত তিন মাসেই ৫ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “দেশকে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে গাছের কোনো বিকল্প নেই। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন, ফল, ফুল ও কাঠ দেয়, যা দিয়ে বহুমুখী আসবাবপত্র ও নানা ধরনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি হয়। তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আমি আমার পৌর এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এই বৃক্ষরোপণ চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশের জন্য ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তনের অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আজ আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। এই সংকট উত্তরণে বেনাপোল পৌর এলাকায় নিজ খরচে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি তিনি হাতে নিয়েছেন। গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং মানবজীবনের প্রধান প্রাণশক্তি অক্সিজেন সরবরাহ করে বাতাসকে নির্মল রাখে। তীব্র দাবদাহ, কালবৈশাখী ঝড়, ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের গতিপ্রকৃতি প্রতিহত করতে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে গাছ দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গাছের শেকড় মাটি কামড়ে ধরে রাখে, যা তীব্র বর্ষণ বা পাহাড়ি ঢলে ভূমিধস রোধ করে এবং মাটির উর্বরতা রক্ষা করে।

তিনি আরও বলেন, গাছ থেকে প্রাপ্ত কাঠ দিয়ে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরি হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে। পাশাপাশি, নিম, তুলসী, অর্জুনসহ বিভিন্ন গাছ থেকে মূল্যবান জীবনরক্ষাকারী ভেষজ ওষুধ প্রস্তুত করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়নের এই যুগে বেনাপোলে চলমান এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু একটি এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনই করছে না, বরং সমগ্র দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য অবদান রাখছে। ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগে এ ধরনের কার্যক্রম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ, সবুজ ও বসবাসযোগ্য পৃথিবী ফিরে পাবে।

উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নাসিমুল গনি বল্টু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল মুননাফ, বেনাপোল ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইছহাক মিয়া, বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল রহমান, বিএনপি নেতা শওকত আলী মাস্টারসহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

তারেক রহমানের ঘোষণা বাস্তবায়নে বেনাপোলে ৫০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

আপডেট: ০৭:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বেনাপোল পৌর এলাকায় পরিবেশ রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে নিজ অর্থায়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের যুগোপযোগী ঘোষণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনি গত তিন মাস ধরে এই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় বেনাপোল পৌর গেট এলাকায় আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু তাহের ভারত এই ঘোষণা করেন, আগামী ৫ বছরে বেনাপোল পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে মোট ৫০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে গত তিন মাসেই ৫ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “দেশকে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে গাছের কোনো বিকল্প নেই। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন, ফল, ফুল ও কাঠ দেয়, যা দিয়ে বহুমুখী আসবাবপত্র ও নানা ধরনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি হয়। তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আমি আমার পৌর এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এই বৃক্ষরোপণ চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশের জন্য ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তনের অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আজ আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। এই সংকট উত্তরণে বেনাপোল পৌর এলাকায় নিজ খরচে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি তিনি হাতে নিয়েছেন। গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং মানবজীবনের প্রধান প্রাণশক্তি অক্সিজেন সরবরাহ করে বাতাসকে নির্মল রাখে। তীব্র দাবদাহ, কালবৈশাখী ঝড়, ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের গতিপ্রকৃতি প্রতিহত করতে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে গাছ দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গাছের শেকড় মাটি কামড়ে ধরে রাখে, যা তীব্র বর্ষণ বা পাহাড়ি ঢলে ভূমিধস রোধ করে এবং মাটির উর্বরতা রক্ষা করে।

তিনি আরও বলেন, গাছ থেকে প্রাপ্ত কাঠ দিয়ে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরি হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে। পাশাপাশি, নিম, তুলসী, অর্জুনসহ বিভিন্ন গাছ থেকে মূল্যবান জীবনরক্ষাকারী ভেষজ ওষুধ প্রস্তুত করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়নের এই যুগে বেনাপোলে চলমান এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু একটি এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনই করছে না, বরং সমগ্র দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য অবদান রাখছে। ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগে এ ধরনের কার্যক্রম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ, সবুজ ও বসবাসযোগ্য পৃথিবী ফিরে পাবে।

উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নাসিমুল গনি বল্টু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল মুননাফ, বেনাপোল ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইছহাক মিয়া, বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল রহমান, বিএনপি নেতা শওকত আলী মাস্টারসহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।