০৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি প্রতিষ্ঠায় সংসদে বিল পাস

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:১৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে (কণ্ঠভোটে) দুটি আইন পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠন করা হয়েছে এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তদন্তের পরিধি সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

বিরোধীদলের আপত্তির মধ্যে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা নাকচ হয়ে যায় কণ্ঠভোটে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‌্যাব ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬ ইতোমধ্যে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক করা হবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করা হবে।

পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করতে ২০০১-০৬ মেয়াদে তৎকালীন বিএনপি সরকার একটি এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করে। পরে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে র‌্যাব আত্মপ্রকাশ করে। একই বছরের ২১ জুন থেকে র‌্যাব পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

এর মধ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবে দায়িত্বপালনকারী ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।

Please Share This Post in Your Social Media

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি প্রতিষ্ঠায় সংসদে বিল পাস

আপডেট: ০৬:১৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে (কণ্ঠভোটে) দুটি আইন পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠন করা হয়েছে এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তদন্তের পরিধি সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

বিরোধীদলের আপত্তির মধ্যে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা নাকচ হয়ে যায় কণ্ঠভোটে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‌্যাব ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬ ইতোমধ্যে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক করা হবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করা হবে।

পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করতে ২০০১-০৬ মেয়াদে তৎকালীন বিএনপি সরকার একটি এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করে। পরে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে র‌্যাব আত্মপ্রকাশ করে। একই বছরের ২১ জুন থেকে র‌্যাব পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

এর মধ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবে দায়িত্বপালনকারী ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।