০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে চটকাপোতার অসহায় পরিবারের পাশে মোস্তফা কামাল মিন্টু

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: পারিবারিক কলহ ও চরম মানসিক অবসাদ থেকে নিজ দুই শিশুসন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাবা কামাল হোসেনের (৪৫) গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে আত্মহত্যার ঘটনায় থমথমে ও শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে যশোরের শার্শার চটকাপোতা গ্রামে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাদ আছর চটকাপোতা গ্রামে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তিনটি লাশের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

​জানাজায় বিএনপির পক্ষে অংশ নিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহত কামাল হোসেনের রেখে যাওয়া অপর শিশুটির হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন শার্শা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু।

​ঘটনার মর্মান্তিকতা তুলে ধরে মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, “চটকাপোতা গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে এমন নজিরবিহীন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। নিষ্পাপ শিশু দুটির নির্মম মৃত্যুর খবর শুনে মায়ার টানে আমি জানাজায় ছুটে এসেছি। সমাজে আমরা আজ শুধু নিজেদের ও নিজ পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকি, আশপাশের মানুষের খবর রাখি না। এই অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই সমাজ আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাবারের অভাবে কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এমন আত্মঘাতী পথ বেছে না নেয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বিএনপি রাষ্ট্রে ক্ষমতায় আছে, আমাদের দল সর্বাবস্থায় এই অসহায় পরিবারটির পাশে থাকবে।”

​জানাজায় স্থানীয় গ্রামবাসী, আত্মীয়স্বজন ছাড়াও শার্শা উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

​উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার চটকাপোতা দক্ষিণপাড়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে ভ্যানচালক কামাল হোসেন এবং তার দুই শিশুসন্তান সাবির (৫) ও জাবিরের (আড়াই বছর) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কামাল হোসেনের আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সর্বশেষ স্ত্রীও এক সপ্তাহ আগে এই দুই সন্তানকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানদের লালন-পালনের সংকট ও চরম হতাশা থেকে তিনি দুই সন্তানকে হত্যার পর নিজে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে লাশ পাঠানো হয়েছিল। বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নেপথ্যে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে চটকাপোতার অসহায় পরিবারের পাশে মোস্তফা কামাল মিন্টু

আপডেট: ০১:০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পারিবারিক কলহ ও চরম মানসিক অবসাদ থেকে নিজ দুই শিশুসন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাবা কামাল হোসেনের (৪৫) গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে আত্মহত্যার ঘটনায় থমথমে ও শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে যশোরের শার্শার চটকাপোতা গ্রামে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাদ আছর চটকাপোতা গ্রামে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তিনটি লাশের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

​জানাজায় বিএনপির পক্ষে অংশ নিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহত কামাল হোসেনের রেখে যাওয়া অপর শিশুটির হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন শার্শা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু।

​ঘটনার মর্মান্তিকতা তুলে ধরে মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, “চটকাপোতা গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে এমন নজিরবিহীন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। নিষ্পাপ শিশু দুটির নির্মম মৃত্যুর খবর শুনে মায়ার টানে আমি জানাজায় ছুটে এসেছি। সমাজে আমরা আজ শুধু নিজেদের ও নিজ পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকি, আশপাশের মানুষের খবর রাখি না। এই অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই সমাজ আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাবারের অভাবে কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এমন আত্মঘাতী পথ বেছে না নেয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বিএনপি রাষ্ট্রে ক্ষমতায় আছে, আমাদের দল সর্বাবস্থায় এই অসহায় পরিবারটির পাশে থাকবে।”

​জানাজায় স্থানীয় গ্রামবাসী, আত্মীয়স্বজন ছাড়াও শার্শা উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

​উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার চটকাপোতা দক্ষিণপাড়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে ভ্যানচালক কামাল হোসেন এবং তার দুই শিশুসন্তান সাবির (৫) ও জাবিরের (আড়াই বছর) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কামাল হোসেনের আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সর্বশেষ স্ত্রীও এক সপ্তাহ আগে এই দুই সন্তানকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানদের লালন-পালনের সংকট ও চরম হতাশা থেকে তিনি দুই সন্তানকে হত্যার পর নিজে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে লাশ পাঠানো হয়েছিল। বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নেপথ্যে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।