যশোরে ব্যবসায়ী আল-আমিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি টুটুল গ্রেফতার
- আপডেট: ১১:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন (২৯) হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি সফিয়ার রহমান ওরফে টুটুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর-২০২৬) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে যশোরের কোতয়ালী থানার চুড়ামনকাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নাজিরশংকরপুর গ্রামের কোল্ড স্টোরেজের পেছনে একটি আধাপাকা বাড়ির জানালার সানশেডের ওপর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার সফিয়ার রহমান ওরফে টুটুল (২৮) যশোরের কোতয়ালী থানার পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থান এলাকার মোসলেম আলীর ছেলে।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব বারান্দীপাড়া মাঠপাড়া এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন চৌরাস্তা মোড়ের দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তিনি বারান্দীপাড়া লিচুতলায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে। পরে তার রক্তাক্ত মরদেহ লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনে জনৈক বাবুর মেহগনি বাগানে ফেলে রেখে যায়।
বিকাল আনুমানিক সোয়া ৪টার দিকে আল-আমিনের মা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ২১ আগস্ট কোতয়ালী মডেল থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই পিবিআই যশোরের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে পিবিআই স্ব-প্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই মো. মাসুদকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম রসুল (৩০) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পিবিআই জানায়, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই যশোর জেলার পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আসামি সফিয়ার রহমান ওরফে টুটুলের অবস্থান শনাক্ত করেন।
এরপর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ, এসআই মো. মিলন মিয়াসহ পিবিআই যশোরের একটি দল অভিযান চালিয়ে টুটুলকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে নাজিরশংকরপুর গ্রামের ফজের আলীর বাড়ির পূর্ব পাশের জানালার সানশেডের ওপর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার টুটুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।


















