১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১১

আজাদ হোসেন, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার:
চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আশাদুল হক মিন্টু (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) সত্যব্রত শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু চুয়াডাঙ্গা শহরতলির দৌলতদিয়াড় চুনুরীপাড়া এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ মাদকবিরোধী অভিযানে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ বেলা একটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাসান চত্বরে অবস্থান করছিল ডিবি পুলিশের একটি দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, দৌলতদিয়াড় গ্রামের ব্রিজের নিচে একজন ব্যক্তি হেরোইন ও প্যাথিডিন ইনজেকশন বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিন্টু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের ডান পকেট থেকে তিনটি পলিথিনে মোড়ানো হেরোইনের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ১৩৫ গ্রাম হেরোইন ছিল। এছাড়া তার বাম পকেট থেকে ১৮টি প্যাথিডিন ইনজেকশনের অ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়। জব্দতালিকা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্যাথিডিন ইনজেকশনের মূল্য ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি মাঞ্জার আলী জোয়ার্দ্দার হেলাল বলেন, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা মামলায় আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে আসামিপক্ষের কৌঁসুলি ফজলে রাব্বী সাগর বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

Please Share This Post in Your Social Media

চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট: ০৭:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

আজাদ হোসেন, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার:
চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আশাদুল হক মিন্টু (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) সত্যব্রত শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু চুয়াডাঙ্গা শহরতলির দৌলতদিয়াড় চুনুরীপাড়া এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ মাদকবিরোধী অভিযানে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ বেলা একটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাসান চত্বরে অবস্থান করছিল ডিবি পুলিশের একটি দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, দৌলতদিয়াড় গ্রামের ব্রিজের নিচে একজন ব্যক্তি হেরোইন ও প্যাথিডিন ইনজেকশন বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিন্টু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের ডান পকেট থেকে তিনটি পলিথিনে মোড়ানো হেরোইনের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ১৩৫ গ্রাম হেরোইন ছিল। এছাড়া তার বাম পকেট থেকে ১৮টি প্যাথিডিন ইনজেকশনের অ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়। জব্দতালিকা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্যাথিডিন ইনজেকশনের মূল্য ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি মাঞ্জার আলী জোয়ার্দ্দার হেলাল বলেন, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা মামলায় আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে আসামিপক্ষের কৌঁসুলি ফজলে রাব্বী সাগর বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।