মানহীন বেকারী পন্য ও শিশু খাদ্যে সয়লাব ঝিকরগাছা বাজার, প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট: ০১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০

স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন ধরনের মানহীন বেকারি পণ্য ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কাপড়ের রং দিয়ে বানানো শিশু খাদ্যে সয়লাব যশোরের ঝিকরগাছা বাজার। সরজমিন ঘুরে দেখা যায় বাজারের মধ্যে রাস্তার পাশ থেকে শুরু করে মাছ বাজারের আশপাশে বা মাংসের দোকানের পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় এসব খাবার বিক্রয় হচ্ছে। এসব খাবারের মান, সংরক্ষণ পদ্ধতি, মেয়াদ এবং প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক ক্রেতা।
সম্প্রতি ঝিকরগাছা বাজারে ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন দোকানে পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, বাটারবন, চানাচুর, বুটভাজা, চকোলেট, চিপস সহ বিভিন্ন খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে। ধুলাবালি ও মাছির হাত থেকে খাবার রক্ষার তেমন ব্যবস্থা দেখা যায়নি। আবার কিছু পণ্যের প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখ উল্লেখ নেই বলেও দেখা গিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব পন্যের মধ্যে বিস্কুট, ভাজা আর চিপস সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। দাম কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকার মধ্যে। প্রতিদিন একেকটি দোকানে ১০০ থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত খাবার বিক্রি হয়। নিম্ন আয়ের মানুষ এই পণ্যের প্রধান ক্রেতা। বাচ্চাদের খাবার ও চিপস জাতীয় খাবারে বিভিন্ন ধরনের রংএর সংমিশ্রণ দেখা যায়। তবে এই রং গুলো ফুড গ্রেডেড কিনা সেটা দোকানীরা নিশ্চিত করতে পারেনি।
ঝিকরগাছা পদ্মপুকুর এলাকার বাসিন্দা সামিয়া বলেন, দাম কম হওয়ায় আমরা নিয়মিত এসব খাবার কিনি। তবে খাবারের মান কেমন, সেটা নিয়ে আমরা জানিনা। ঝিকরগাছা পারবাজার এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বলেন, কয়েকদিন আগে তিনি সবুজ কালারের বুটভাজা কিনে বাসায় নিয়ে যান। পরে খাবারটি হাতে নেওয়ার পর হাতে সবুজ রঙের দাগ লেগে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য, হাতে যে রং লেগেছিল, তা দেখে কাপড়ে ব্যবহৃত রঙের মতো মনে হয়েছে। বিষয়টি দেখে আর খাওয়ার সাহস পাইনি।
ঝিকরগাছা বাজারের এসকল পণ্যের দোকানি রাজু বলেন, আমাদের এই সড়কে ৫/৬টি সহ মাছ বাজারের আশেপাশে ও বাজারের মধ্যে অনেক দোকান আছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এই খাদ্যের দোকান গড়ে উঠেছে। আমরা জামতলা-দেউলির কামরুল ফুড এন্ড মারিয়া চানাচুর এবং যশোরের শংকরপুর, মনিরামপুর এলাকার কয়েকজন বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করি। তারা নিয়মিত বাজারে এসে মাল ডেলিভারি দিয়ে যায়।
তবে বাজারের ক্রেতাদের অভিযোগ, কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে এসব খাবার নিয়মিত কেনা হলেও অনেকেই পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্নের তারিখ কিংবা খাবার সংরক্ষণের বিষয়টি খেয়াল করেন না। স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে শুধু কথার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা দরকার। একই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি থাকলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির প্রবণতাও কমবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল মতিন বলেন, খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া এসকল পন্যের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে ল্যাবটেস্ট না করলে শিওর হওয়া যাবেনা। শিশু খাদ্য সহ অন্যান্য খাবারের মান নিশ্চিত করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।
ঝিকরগাছা বাজারে বিক্রি হওয়া এসব পণ্যের মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সাধারণ ক্রেতারা।





















