প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গ্রেপ্তার
- আপডেট: ১১:৪০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / ৭

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্থানীয় একটি দৈনিকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে। তিনি হলেন ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম (৪০)।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর জেলার গাছা থানার বোর্ড বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত এই সাংবাদিককে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলাহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই আসামিকে গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জেরে গত ১৫ই জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং ‘দি নিউ নেশন’ পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন বাদী হয়ে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আরজিতে পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশকসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।
আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান বাদীর জবানবন্দি ও প্রাথমিক শুনানি শেষে অভিযোগটি আমলে নেন এবং বগুড়া সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি নিয়মিত মামলা বা এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। আদালতের সেই আদেশের পর বগুড়া সদর থানা পুলিশ সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এর বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করে। পরবর্তীতে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এর তদন্তের দায়িত্বভার হস্তান্তর করা হয় বগুড়া ডিবি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রহমাতুল্লাহ মানিকের ওপর। এই মামলার এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন, দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিবেদক মো. শামস এবং বগুড়া জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসান।
মামলার বাদী তানভীর আলম তার নথিতে অভিযোগ করেন, আসামিরা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ ও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন। গত ১২ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সাংবাদিক ছিলেন দাবি করে এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম’ শিরোনামে একটি উস্কানিমূলক পোস্ট ও সংবাদ প্রচার করা হয়। শুধু তাই নয়, গত ১৩ই জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীকে জড়িয়ে ফেসবুকে আরও কিছু বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে দেয়া হয়। বাদীর দাবি, এই ধরনের পরিকল্পিত ও বানোয়াট প্রচারণার ফলে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।
বগুড়া ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিবির একটি বিশেষ টিম বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গাজীপুর জেলার গাছা থানার বোর্ড বাজার এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার ২ নম্বর আসামি রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত রেজানুর ইসলাম গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার বসুরা এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে।
ডিবি পুলিশ শুক্রবার দুপুরে রেজানুরকে বগুড়া আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রহমাতুল্লাহ মানিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই মামলার অন্য আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অপরাধের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুত্র : দৈনিক মানব জমিন।

























