তরুণদের মাঠে ফেরাতে খাগড়াছড়িতে মাসব্যাপী ত্রিপুরা ফুটবল টুর্নামেন্টের সূচনা
- আপডেট: ১০:১৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / ৯

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
“তরুণের শক্তি, খেলাধুলার গতি, এগিয়ে যাক ত্রিপুরা সমাজের ঐক্য ও প্রগতি”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে মাসব্যাপী ত্রিপুরা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পশ্চিম গোলাবাড়ি ত্রিপুরা পাড়ার ঠাকুরছড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদ (বিটিজেকেএস) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিটিজেকেএস খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ফলেন ময় ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক ও বিটিজেকেএস খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি সোহাগ ত্রিপুরা।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের খাগড়াছড়ি সদর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মিহির কান্তি ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন, স্থানীয় ইউপি সদস্য রাম কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য জ্যোতিষ বসু ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি ফুটবল একাডেমির সভাপতি রেভিলিয়াম রোয়াজাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তরুণদের মাঠে ফেরানোর আহ্বান:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমল বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের বড় একটি অংশ মোবাইল ফোন, অনলাইন গেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, হতাশা ও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, “খেলাধুলা তরুণদের সুস্থ জীবনধারার পথে নিয়ে যায়। মাঠে যত বেশি তরুণ থাকবে, সমাজ তত বেশি মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত থাকবে। ক্রীড়া শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্মানবোধ গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। ত্রিপুরা সমাজের নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই এ ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।”
বক্তারা আরও বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করে এবং সমাজে সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুগ্ধ দর্শক
উদ্বোধনী আলোচনা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হয়। প্রথমার্ধে খেলা মেষে বিরতির সময়ও ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করা হয়। মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু:
পরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইমাং বাকসা ক্লাব ও বাঙালকাটি কিং ইলেভেন মুখোমুখি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচে উভয় দলই একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র-এ শেষ হয়।
মাসব্যাপি অংশ নিচ্ছে ২৮টি দল:
আয়োজকরা জানান, এবারের টুর্নামেন্টে খাগড়াছড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মোট ২৮টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলগুলোকে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা পরিচালনা করা হবে।
তাদের মতে, টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার, মাদক ও প্রযুক্তিনির্ভর আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং ত্রিপুরা সমাজের ঐক্য, সংস্কৃতি ও প্রগতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
মাসব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে ত্রিপুরা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই টুর্নামেন্ট শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করে একটি সুস্থ, সচেতন ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।


























