১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

যশোরে তানভীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুসা গ্রেফতার, ককটেল ও পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শংকরপুরে চাঞ্চল্যকর তানভীর হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী মুসা (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে র‍্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার আইটি পার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুসাকে গ্রেফতার করে। সে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা এবং হাফিজুর রহমানের ছেলে।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টা ৪০ মিনিটে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার নুরুন্নবীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে শাহিনের আধা পাকা টিনশেড বাড়ির পশ্চিম পাশের ডোবার সংলগ্ন ময়লার স্তুপ থেকে পাঁচটি ককটেল ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এসব আলামত জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মো. তানভীর হাসান (২৬) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। এর আগে তানভীরের বন্ধু আফজাল হত্যার প্রতিবাদ করায় মুসাসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে তার শত্রুতা তৈরি হয়। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আসামিরা তানভীরকে হত্যার উদ্দেশ্যে যশোরের নাজির শংকরপুর (হাজারীগেট) এলাকায় তার বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে। এ সময় তানভীরকে না পেয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে তারা চলে যায়।

পরবর্তীতে ওই রাতেই ৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে শংকরপুর হাজারীগেট থেকে আনসার ক্যাম্পে যাওয়ার পথে শংকরপুর আনসার ক্যাম্পের পেছনে পৌঁছামাত্রই আসামিরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তানভীরকে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মুসার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ বিস্ফোরক মামলা, হত্যা চেষ্টা, ধর্ষণ, দ্রুত বিচার আইনসহ মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এলাকায় সে দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

র‍্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোরের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যা, ধর্ষণ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামিকে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরে তানভীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুসা গ্রেফতার, ককটেল ও পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার

আপডেট: ১২:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শংকরপুরে চাঞ্চল্যকর তানভীর হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী মুসা (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে র‍্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার আইটি পার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুসাকে গ্রেফতার করে। সে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা এবং হাফিজুর রহমানের ছেলে।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টা ৪০ মিনিটে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার নুরুন্নবীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে শাহিনের আধা পাকা টিনশেড বাড়ির পশ্চিম পাশের ডোবার সংলগ্ন ময়লার স্তুপ থেকে পাঁচটি ককটেল ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এসব আলামত জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মো. তানভীর হাসান (২৬) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। এর আগে তানভীরের বন্ধু আফজাল হত্যার প্রতিবাদ করায় মুসাসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে তার শত্রুতা তৈরি হয়। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আসামিরা তানভীরকে হত্যার উদ্দেশ্যে যশোরের নাজির শংকরপুর (হাজারীগেট) এলাকায় তার বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে। এ সময় তানভীরকে না পেয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে তারা চলে যায়।

পরবর্তীতে ওই রাতেই ৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে শংকরপুর হাজারীগেট থেকে আনসার ক্যাম্পে যাওয়ার পথে শংকরপুর আনসার ক্যাম্পের পেছনে পৌঁছামাত্রই আসামিরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তানভীরকে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মুসার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ বিস্ফোরক মামলা, হত্যা চেষ্টা, ধর্ষণ, দ্রুত বিচার আইনসহ মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এলাকায় সে দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

র‍্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোরের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যা, ধর্ষণ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামিকে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।